অষ্টম বেতন কমিশনের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক, ন্যূনতম বেতন কি পৌঁছাবে ৭২ হাজারে?
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/04/15/8th-pay-commission-news-2026-04-15-14-18-53.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
দেশজুড়ে এক কোটিরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন। ২০১৬ সালের পর থেকে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পরবর্তী বেতন কাঠামো নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি হতে চলেছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। সপ্তম বেতন কমিশনে এই গুণকটি ২.৫৭ নির্ধারিত হলেও, বর্তমান বাজারে তা একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক বলে দাবি করছে বিভিন্ন কর্মী সংগঠন। ফলে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের দাবিতে দেশজুড়ে বিতর্ক ও তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে।
কর্মী সংগঠনগুলোর বহুমুখী দাবি ও প্রস্তাব
ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনস (FNPO) সম্প্রতি সরকারের কাছে পেশ করা এক ৬০ পৃষ্ঠার চিঠিতে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বর্তমান ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ৩ থেকে ৩.৫ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের পক্ষে সওয়াল করেছে। অন্যদিকে, ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সঙ্ঘ (BPMS) একধাপ এগিয়ে ৪.০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি তুলেছে, যা কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন দাঁড়াবে ৭২,০০০ টাকা। এছাড়া এনসিজেসিএম স্টাফ সাইড ও এআইডিইএফ ৩.৮৩৩ ফ্যাক্টর (ন্যূনতম বেতন প্রায় ৬৯,০০০ টাকা) এবং মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অ্যাসোসিয়েশন ৩.৮ ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে। মূলত গত এক দশকে ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি ৫৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়াকেই এই উচ্চতর দাবির মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আর্থিক ভারসাম্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
কর্মী সংগঠনগুলোর আকাশছোঁয়া দাবির বিপরীতে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ ভিন্ন সমীকরণ দেখছেন। তাদের মতে, কর্মচারীদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপের বিষয়টিও কেন্দ্রকে মাথায় রাখতে হবে। বিশ্লেষকদের অনুমান, সরকার শেষ পর্যন্ত একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে পারে, যেখানে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.২৮ থেকে ২.৮৬-এর মধ্যে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। যদি ২.৮৬ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চূড়ান্ত করা হয়, তবে বর্তমান সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫১,৪৮০ টাকা হবে। এই বৃদ্ধিকে মুদ্রাস্ফীতির বাজারে একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণে আগামী ১৫ই জুন ২০২৬ পর্যন্ত স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে বেতন কমিশন। এছাড়া, আগামী জুলাই মাসে কলকাতা ও ভুবনেশ্বরে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ১০ বছরের জন্য লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর জীবনযাত্রার মান কেমন হবে, তা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ ও সরকারের আর্থিক ভারসাম্যের সিদ্ধান্তের ওপর।