এন্টালিতে বিধায়কের বাড়ি ঘেরাও করে অভিনব বিক্ষোভ, প্রিয়াঙ্কাকে কুরুচিকর আক্রমণে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক!

এন্টালিতে বিধায়কের বাড়ি ঘেরাও করে অভিনব বিক্ষোভ, প্রিয়াঙ্কাকে কুরুচিকর আক্রমণে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক!

কলকাতার এন্টালিতে শাসকদলের নতুন পরিষদীয় উপনেতা তথা বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়ি ঘেরাওকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের নেতৃত্বে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা বৃহস্পতিবার সকালে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন গাধার মুখে বিধায়কের ছবি সেঁটে স্লোগান দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মেজাজ হারিয়ে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালকে অত্যন্ত কুরুচিকর ও নারীবিদ্বেষী ভাষায় আক্রমণ করেছেন সন্দীপনের বাবা তথা এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিক্ষোভের নেপথ্য কারণ ও দুর্নীতি সিন্ডিকেটের অভিযোগ

তৃণমূলের পরিষদীয় দলে নাটকীয় রদবদল এবং নতুন কমিটিতে সন্দীপন সাহার ডেপুটি লিডার নির্বাচিত হওয়ার ঠিক পরদিনই এই গণবিক্ষোভ আছড়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এন্টালি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাবা ও ছেলে (স্বর্ণকমল ও সন্দীপন) রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিন্ডিকেট রাজ, জমি সংক্রান্ত অনিয়ম এবং আবাসন নির্মাণে মোটা অঙ্কের তোলাবাজির সাম্রাজ্য চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সন্দীপন সাহা যখন কাউন্সিলর ছিলেন, তখন থেকেই এলাকায় এই অসামাজিক প্রভাব ও ক্ষোভের সূত্রপাত, যা বর্তমান প্রশাসনিক কড়াকড়ির আবহে রাস্তায় এসে আছড়ে পড়েছে।

আইনি সংঘাত ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রবীণ নেতা স্বর্ণকমল সাহা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করলেও, বিজেপি নেত্রীর উদ্দেশ্যে তাঁর চরম আপত্তিকর মন্তব্য রাজনৈতিক শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পেশায় আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল এই অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে স্বর্ণকমলবাবুকে আদালতে টানবেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে। একদিকে পরিষদীয় দল ভাঙার পর সন্দীপন সাহারা যখন নিজেদের জনমুখী প্রমাণ করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই নিজেদের গড়ে ওঠা এই দুর্নীতি বিরোধী বিক্ষোভ এবং নারীবিদ্বেষী মন্তব্য শাসকদলের ভাবমূর্তিকে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *