মেসি ইভেন্ট বিতর্কে হাজিরা এড়ালেন অরূপ বিশ্বাস, অসুস্থতার অজুহাতে চাইলেন দুই সপ্তাহ!

লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতায় নতুন মোড় নিল। টিকিট কালোবাজারি ও প্রতারণার অভিযোগে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তলব করা হলেও, শেষ মুহূর্তে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পুলিশি সূত্রের খবর, সশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি আপাতত ১৪ দিনের সময় চেয়েছেন।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, গত ১৭ মে মেসির ‘গোট টুর’ ইভেন্টের অন্যতম প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
গুরুতর অভিযোগ ও আদালতের ধাক্কা
অভিযোগ পত্রে টিকিট কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের মতো একাধিক মারাত্মক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় ২২ হাজার টিকিট অবৈধভাবে কালোবাজারি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে, প্রভাব খাটিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই অরূপ বিশ্বাস ফুটবল তারকা মেসির অত্যন্ত কাছাকাছি চলে যান, যা আন্তর্জাতিক ইভেন্টের নিরাপত্তা বিধিকে লঙ্ঘন করে।
এই ঘটনার তদন্তে ৪ জুন প্রাক্তন মন্ত্রীকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে সময় চেয়ে নেন। এর আগে আইনি রক্ষাকবচ পেতে অরূপ বিশ্বাস বারাসাত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানালেও তা খারিজ হয়ে যায়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর বর্তমানে তাঁর কাছে কোনো আইনি সুরক্ষা নেই, ফলে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ যেকোনো সময় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
তদন্তের এই পর্যায়ে অরূপ বিশ্বাসের আচমকা অসুস্থতা এবং সময় চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। মামলাকারী শতদ্রু দত্ত এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, সমন পাওয়ার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টিকে সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখবে না। চিকিৎসার নথি দেখিয়ে সাময়িক সময় পাওয়া গেলেও, আইনি প্রক্রিয়ার হাত থেকে পার পাওয়া সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সাথে যুক্ত হয়েছে বড়সড় আর্থিক প্রতারণা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর জামিন নাকচ হওয়া এবং তদন্ত এড়ানোর এই চেষ্টা আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসনের স্বচ্ছতাকেও বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।