আইআইটির ডিগ্রিধারী থেকে স্বঘোষিত ধর্মগুরু, আধ্যাত্মিকতার আড়ালে তরুণীদের ব্ল্যাকমেল ও ধর্ষণের অভিযোগে শ্রীঘরে ‘বাবা’

আধ্যাত্মিক চর্চা ও ধর্মোপদেশের আড়ালে শিক্ষিত তরুণীদের মগজধোলাই, মাদক খাইয়ে ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিয়ো দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে মথুরা থেকে গ্রেফতার হয়েছেন এক স্বঘোষিত ধর্মগুরু। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ২৯ বছর বয়সি যুবকের নাম অভিষেক মিশ্র ওরফে নারায়ণ দাস। ওড়িশার বাসিন্দা অভিষেক দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘আইআইটি রুরকি’ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্নাতক। আধ্যাত্মিকতার চটকে মেতে চার বছর আগে পেশা ত্যাগ করে মথুরার রাধাকুণ্ড এলাকায় ধর্মীয় গল্পকার সেজে বসেন তিনি। ছত্তীসগঢ়ের এক ২২ বছর বয়সি নার্সিং ছাত্রীর দায়ের করা ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।
পেশাদার মোড়কে ফাঁদ ও মগজধোলাই
অভিযুক্ত অভিষেক নিজের পরিচিতি ও ভক্তসংখ্যা বাড়াতে ‘রাধা কৃপা অমৃতা’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালাতেন এবং লিঙ্কডইনে একটি পেশাদার প্রোফাইল তৈরি করেছিলেন। হিন্দি ও ইংরেজি—উভয় ভাষাতেই তাঁর বাচনভঙ্গিতে মোহিত হয়ে বহু শিক্ষিত তরুণ-তরুণী পরিবার ছেড়ে তাঁর আশ্রমে থাকতে শুরু করেন। একসময় সেখানে ২৪ জন ভক্ত বসবাস করতেন। শিক্ষিত তরুণ সমাজ, বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া তরুণীদের টার্গেট করতেন তিনি। ভক্তদের বশে রাখতে নিয়মিত চলত মনস্তাত্ত্বিক মগজধোলাই।
কুকীর্তির কৌশল ও অপরাধের প্রভাব
পুলিশি তদন্তে প্রকাশ, অভিষেক তাঁর নারী ভক্তদের শাস্ত্রীয় ‘গান্ধর্ব বিবাহের’ প্রস্তাব দিতেন। শারীরিক সম্পর্কের আগে প্রসাদের ছলে তরুণীদের মাদক মেশানো দুধ খাইয়ে অবশ করে দেওয়া হতো। এরপর চলত যৌন নির্যাতন এবং গোপনে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে রাখা হতো। পরবর্তীতে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিয়ো ব্যবহার করে নিগৃহীতা ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্ল্যাকমেল করা হতো। ছত্তীসগঢ়ের অভিযোগকারী তরুণীর কাছ থেকেও একইভাবে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ অভিষেকের মোবাইল ফোন থেকে একাধিক তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও তথ্য উদ্ধার করেছে।
উচ্চশিক্ষিত এক যুবকের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর ঘটনাটি সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। এই ঘটনার প্রভাবে আধ্যাত্মিকতার নামে চলা স্বঘোষিত আশ্রমগুলোর কার্যকারিতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মপ্রচারের আড়ালে তৈরি হওয়া ফাঁদ নিয়ে জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও সংশয় দেখা দিয়েছে। অভিযুক্তের চক্রে আর কতজন শিকার হয়েছেন, তা জানতে পুলিশি তদন্ত জারি রয়েছে।