হত্যাকাণ্ডে জড়িত জামাত, বিএনপি ও ইউনূস সরকার, বিস্ফোরক দাবি ওসমান হাদির ভাইয়ের

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের ছাত্রনেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে এবার তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান শাসকজোটের বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। নিহতের ভাই ওমর হাদি সামাজিক মাধ্যমে করা একাধিক পোস্টে দাবি করেছেন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী এবং তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যৌথভাবে এই হত্যাকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করেছিল। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ওসমান হাদি কট্টর ভারত বিরোধী অবস্থানের পাশাপাশি শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক হাদি ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে নির্দল প্রার্থী হিসেবে সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঢাকাতে একদল মুখোশধারী বন্দুকধারী তাঁকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি চালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরিত করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় দিন পর তাঁর মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
নিহতের ভাইয়ের দাবি অনুযায়ী, নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি প্রভাবশালী অংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ব্যক্তিগত সচিব এই হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও সরাসরি এই খুনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওমর হাদি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলার শিকার হতে পারেন।
তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকা থেকে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম জড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ ইতিমধ্যেই ইউনূস সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে গণ অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই নতুন অভিযোগ বর্তমান তারেক রহমান সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।