তৃণমূল ভাঙার হিম্মত নেই ঋতব্রতর, নেপথ্যে অমিত শাহ ও শুভেন্দু

তৃণমূল ভাঙার হিম্মত নেই ঋতব্রতর, নেপথ্যে অমিত শাহ ও শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে ভেঙে গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। ৬০ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় নতুন দলনেতা ও বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নেপথ্যে ঋতব্রতর নিজস্ব কোনো সাংগঠনিক ক্ষমতা বা সাহস ছিল না বলে দাবি করেছেন শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, পর্দার আড়াল থেকে এই দল ভাঙার মূল কারিগর আসলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

মহারাষ্ট্রের শিন্ডে মডেলের পুনরাবৃত্তি

মুম্বইয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সঞ্জয় রাউত পশ্চিমবঙ্গের এই ঘটনাকে মহারাষ্ট্রের পূর্বতন রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, যেভাবে মহারাষ্ট্রে একনাথ শিন্ডেকে সামনে রেখে শিবসেনা ভাঙা হয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় বাংলায় তৃণমূলকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়েছে। রাউতের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতার পক্ষে একক ক্ষমতায় এত বিপুল সংখ্যক বিধায়ক জোগাড় করা আসাম্ভব। এর পেছনে কাজ করেছে বিপুল অর্থের লেনদেন এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়ভীতি। মহারাষ্ট্রে যেভাবে বিধায়কদের ইডি ও সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে পাশে টানা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি হুবহু সেই একই কৌশল প্রয়োগ করেছে।

নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙনের সূত্রপাত মূলত দিল্লির এক গোপন বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোলাকাতের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া অসন্তোষ এবং বিজেপির সুপরিকল্পিত রণকৌশলই এই ভাঙন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। রাজ্য বিধানসভার স্পিকার ইতিমধ্যেই ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকেই মূল ‘তৃণমূল’ হিসেবে আইনি মান্যতা দেওয়ায় মমতার নেতৃত্বাধীন অংশটি এখন গভীর সংকটে।

এই ঘটনার ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একদিকে যেমন রাজ্য প্রশাসনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের আইনি লড়াই চরম আকার ধারণ করবে, অন্যদিকে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় জাতীয় স্তরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য বিধানসভায় নিজেদের শক্তি পরোক্ষভাবে বৃদ্ধি করে বিজেপি বাংলায় এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে সক্ষম হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *