১৫ বছরের ডেডলক ভাঙার লক্ষ্য, শনিবার নবান্নে অশ্বিনী বৈষ্ণো ও শুভেন্দু অধিকারীর মেগা বৈঠক

বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর এবার অবশেষে কাটতে চলেছে রাজ্যের রেল প্রকল্পগুলির দীর্ঘদিনের জট। আগামী শনিবার, ৬ই জুন কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় রেল ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো। নবান্ন সূত্রের খবর, সেদিন সকাল ১১টায় নবান্ন সভাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসবেন তিনি। গত ১৫ বছর ধরে মূলত জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং রাজ্য-কেন্দ্রের টানাপোড়েনের কারণে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রোজেক্টের কাজ সম্পূর্ণ থমকে বা শ্লথ হয়ে রয়েছে। নবান্নের এই মেগা বৈঠকেই সেই সমস্ত জট কাটিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও प्रशासनिक মহল।
জমি জটে আটকে থাকা ৫টি মেগা প্রকল্প
বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রেল মন্ত্রক ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ নজরে রয়েছে মূলত পাঁচটি বড় লাইফলাইন প্রোজেক্ট। এর মধ্যে প্রথমটি হলো জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রো প্রকল্প, যার মোমিনপুর থেকে এসপ্ল্যানেড অংশ এবং মাঝেরহাট সংলগ্ন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জমি সংক্রান্ত ছাড়পত্রের জটিলতা ছিল। দ্বিতীয়ত, নোয়াপাড়া-বারাসাত মেট্রো প্রকল্পে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিমানবন্দর সংলগ্ন এবং বারাসাত লাইনের উপর থাকা জবরদখল ও জমি অধিগ্রহণ সমস্যা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ রুট নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের কাজ অনেকখানি এগোলেও চিংড়িঘাটা মোড় এবং মহিষবাথান এলাকায় ইমারত সংক্রান্ত জটের কারণে কাজ আটকে ছিল। চতুর্থত, পূর্ব-পশ্চিম (East-West) মেট্রো প্রকল্পের শিয়ালদহ থেকে এসপ্ল্যানেড অংশ বউবাজার এলাকার বিপর্যয়, পুনর্বাসন ও প্রশাসনিক ঢিলেমির জেরে পিছিয়ে যায়। এছাড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর-রাইদিঘি, ক্যানিং-ভাঙনখালি প্রকল্প কিংবা উত্তরবঙ্গের একাধিক শহরতলির রেললাইন ডবলিং ও নতুন লাইন তৈরির কাজ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এবং জমি হস্তান্তর নিয়ে পূর্বতন সরকারের নীতির কারণে থমকে রয়েছে।
সমন্বয়ের নতুন দিগন্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলায় কেন্দ্র ও রাজ্যে সমন্বয়ের এক নতুন দিগন্ত খুলেছে। পূর্বতন সরকারের সঙ্গে রেলের যে ‘সংঘাতের রাজনীতি’ চলত, তার অবসান ঘটিয়ে নতুন রাজ্য সরকার এখন পরিকাঠামো খোলনলচে বদলে ফেলতে মরিয়া। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর এই সফর স্রেফ সৌজন্যমূলক নয়, বরং বাংলায় থমকে থাকা কয়েক হাজার কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বিনিয়োগকে দ্রুত বাস্তবায়িত করার চূড়ান্ত ধাপ। এই বৈঠকের ফলে জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া দ্রুত গতি পাবে এবং থমকে থাকা প্রকল্পগুলো চালু হলে কলকাতার পাশাপাশি সমগ্র রাজ্যবাসী উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন।