রাতারাতি বন্ধ পুণের আইটি সংস্থা, চাকরি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ৭০০ কর্মী!

রাতারাতি বন্ধ পুণের আইটি সংস্থা, চাকরি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ৭০০ কর্মী!

ভারতের অন্যতম প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি হাব পুণের হিঞ্জাওয়াড়িতে এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কোনো পূর্ব নোটিস ছাড়াই ‘থিঙ্ক টেক ইন্ডিয়া’ নামের একটি স্টার্টআপ আইটি সংস্থা রাতারাতি তাদের অফিস বন্ধ করে দেওয়ায় ৭০০ জনেরও বেশি ইঞ্জিনিয়ার, কর্মী ও ইন্টার্ন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শুধু আকস্মিক ছাঁটাই-ই নয়, বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে সংস্থার প্রধান নির্বাহী আধিকারিক (সিইও)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সংস্থার ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রধান এবং মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধেও প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রতারণার নেপথ্যে চাকরি ও ট্রেনিংয়ের টোপ

তদন্তে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই স্টার্টআপটি বড়সড় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। ইন্টার্নদের মাসিক ১৫,০০০ টাকা স্টাইপেন্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি চাকরি নিশ্চিত করা, ট্রেনিং ও ল্যাপটপ দেওয়ার নামে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের নিরাপত্তা আমানত (সিকিউরিটি ডিপোজিট) নেওয়া হয়। শুরুর দিকে নিয়মিত বেতন দেওয়া হলেও ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বকেয়া মেটাতে দেওয়া সংস্থার চেকগুলোও ব্যাংকে বাউন্স করে। কর্তৃপক্ষ ফান্ডিং সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে সময় পার করলেও ভেতরে ভেতরে নতুন কর্মী নিয়োগের নামে টাকা তোলা জারি রেখেছিল। গত এপ্রিল মাসে আকস্মিক অফিস বন্ধ পাওয়ায় হিঞ্জেওয়াড়ি থানায় এক ২৫ বছর বয়সী ইন্টার্ন প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে আরও ৩০ জনেরও বেশি কর্মী একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

আইটি খাতের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনা ভারতের আইটি এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে গভীর উদ্বেগ ও আলোড়ন তৈরি করেছে। হিঞ্জাওয়াড়ির মতো একটি প্রতিষ্ঠিত আইটি হাবে এমন জালিয়াতি কর্মসংস্থান ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং কর্পোরেট দায়বদ্ধতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ভুক্তভোগী কর্মচারীরা ইতিমধ্যে উপ-শ্রম কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। যদিও ১ মে সংস্থার সিইও তিন মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের লিখিত আশ্বাস দিয়েছিলেন, তবে আইনি জটিলতা ও গ্রেফতারের পর সেই অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টার্টআপ ক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি ও কঠোর আইন না থাকলে আগামীতে চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা যেমন কমবে, তেমনই সামগ্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ঘটনার গভীরে গিয়ে পুলিশ এখন কর্মীদের আমানতের টাকা আত্মসাৎ ও শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *