২২৭০০ কোটির মেগা প্রকল্প, তাজপুরের বিকল্পে নদীগর্ভের টানেল ও ওয়াটার মেট্রোর আলোয় বাংলা

তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পূর্ববর্তী পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত ছিল না বলে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। পূর্বতন সরকারের নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের পরিবর্তে এবার তাজপুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপত্রবাড়ে নতুন করে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিকল্প পরিকল্পনাসহ রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন। একই সাথে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে আন্ডারওয়াটার টানেল এবং ওয়াটার মেট্রো চালুর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
দাদনপত্রবাড়ে বিকল্প বন্দরের খোঁজ ও পরিকাঠামোয় বিপুল লগ্নি
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূর্বতন সরকারের তাজপুর প্রকল্পের জন্য রাজ্যের হাতে পর্যাপ্ত জমি ছিল না। রেল ও জাতীয় সড়কের সংযোগকারী কয়েক হাজার একর জমির অভাব থাকায় ওই প্রকল্প রূপায়ণ আসাম্ভব ছিল। এই পরিস্থিতিতে আশাহত না হয়ে তাজপুরের কাছেই দাদনপত্রবাড়ে রাজ্যের নিজস্ব ১,৭০০ একর জমিতে নতুন বন্দর গড়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে। পূর্বে নুনের কারখানা থাকা এই জমিতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে কাজ এগোবে, প্রয়োজনে আরও জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এর পাশাপাশি সাগরমালা-২ প্রকল্পের অধীনে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ২২,৭০০ কোটি টাকার একটি বিশাল উন্নয়নমূলক প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে, যা কাকদ্বীপ থেকে ওড়িশা সীমান্ত পর্যন্ত সমগ্র উপকূলীয় এলাকার বন্দর ও মৎস্য পরিকাঠামোর খোলনলচে বদলে দেবে।
নদীগর্ভে টানেল ও কলকাতার নতুন ওয়াটার মেট্রো
কলকাতার মেয়র ও বিধায়কদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এবার হুগলি নদীর নীচে আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল তৈরির ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এই কাজের জন্য কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এনওসি বা অনাপত্তি শংসাপত্র দিতে রাজি হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ১৭টি শহরের পর এবার তিলোত্তমা কলকাতাও যুক্ত হতে চলেছে আধুনিক ওয়াটার মেট্রো নেটওয়ার্কের সাথে। জলপথের এই আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি তৈরি করা হবে, যার মধ্যে ৪১টিরই ছাড়পত্র মিলেছে। এর পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে সাগরদ্বীপের কপিল মুনির আশ্রম সংলগ্ন সৈকত অঞ্চলের পরিকাঠামোও ঢেলে সাজানো হবে। এসব মেগা প্রকল্পের সফল রূপায়ণ আগামী দিনে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতি, পণ্য পরিবহন ও পর্যটন শিল্পে এক অভূতপূর্ব গতি আনবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।