বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ টাকার প্রতারণা, মাটিগাড়ায় ধরা পড়ল ডালখোলার যুবক

প্রেমের ফাঁদ পেতে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী হলো শিলিগুড়ি। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস এবং দফায় দফায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম আজমতউল্লাহ, যার আদি বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলায়। মাটিগাড়া এলাকার একটি নামী শপিং মলের সামনে থেকে পুলিশ তাকে পাকড়াও করে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করেছে।
পাবের আলাপ থেকে গভীর প্রেম ও প্রতারণার ছক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর সেবক রোডের একটি নামী পাবে রানিডাঙার বাসিন্দা এক মহিলার সঙ্গে আলাপ হয় আজমতউল্লাহর। দ্রুত সেই আলাপ গভীর প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, একদিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে আজমতউল্লাহ তাঁর জন্য একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে এবং সেখানেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর থেকেই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। আর এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই নানা ব্যক্তিগত অজুহাত দেখিয়ে ওই মহিলার কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৯ লক্ষ ৭০ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত।
প্রতারণার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং সহজে টাকা উপার্জনের লোভেই অভিযুক্ত যুবক এই ধরণের প্রতারণার ছক কষেছিল। মহিলার সরলতা ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আর্থিক ফায়দা তোলাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। তবে কিছুদিন আগে অভিযুক্তকে অন্য এক যুবতীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার পর ওই মহিলার মনে খটকা লাগে। এরপর বিয়ের জন্য চাপ দিতেই যুবকটি এড়িয়ে যেতে শুরু করে। প্রতারিত হয়েছেন নিশ্চিত হয়েই গত ১১ মে ভক্তিনগর থানার দ্বারস্থ হন ওই মহিলা।
এই ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতায় অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও, এই ধরণের প্রতারণা সমাজে সাইবার ও সামাজিক অপরাধের এক নতুন প্রবণতা নির্দেশ করছে। এই চক্রের পিছনে আর কোনও বড় গ্যাং রয়েছে কি না, কিংবা এর আগেও আজমতউল্লাহ অন্য কোনও মহিলাকে এভাবে প্রেমের জালে ফাঁসিয় টাকা লুটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ভক্তিনগর থানার পুলিশ।