তৃণমূলের ভাঙনে ‘ঘরওয়াপসি’র ডাক দিয়ে ময়দানে কংগ্রেস!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক বড়সড় ভাঙন এবং ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। শাসক দলের এই নজিরবিহীন ভাঙনকে কেন্দ্র করে এবার নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রদেশ কংগ্রেস। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি টেনে তৃণমূলের ‘নিষ্ঠাবান’ নেতা-কর্মীদের জন্য দলের দরজা খোলা রাখার ঘোষণা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
তৃণমূলের ভাঙন ও ‘ছায়া বিরোধী’ বিতর্ক
বিধানসভায় নাটকীয় এই পরিবর্তনের পর শাসক দল রাজ্যে একটি ‘ছায়া বিরোধী’ তৈরি করেছে বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন শুভঙ্কর সরকার। তাঁর মতে, এর ফলে রাজ্যে কার্যত কোনো প্রকৃত বিরোধী দলই অবশিষ্ট থাকল না, যা পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’। নতুন এই বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতীক ও আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট জানান, যে দলের বিধায়করা ভেঙে এলেন, তাঁদের মূল প্রতীক কার কাছে থাকবে তা এখনো অনিশ্চিত। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের সুযোগ নিয়েই ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হওয়া তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের আদি দল কংগ্রেসে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইতিহাসের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার পেছনে রয়েছে অতীতে বিরোধী দল ভাঙানোর দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। ২০১৬ সালে কংগ্রেস বিধায়কদের তৃণমূলে যোগদান কিংবা ২০২৩ সালে সাগরদিঘির জয়ী কংগ্রেস বিধায়ককে শাসক দলে টেনে নেওয়ার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। অতীতে যে দল ভাঙার খেলা শাসক দল খেলেছিল, আজ তারা নিজেরাই সেই একই সংকটের মুখোমুখি।
এই ভাঙনের জেরে আগামী দিনে রাজ্যের শাসক শিবিরে যেমন বড়সড় নেতৃত্ব সংকট তৈরি হতে পারে, তেমনই আদর্শগতভাবে কোণঠাসা তৃণমূল কর্মীদের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। তবে বিজেপি যেভাবে ‘ভালো তৃণমূলী’দের দলে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে, কংগ্রেসের রণকৌশল তার চেয়ে কিছুটা আলাদা। ইডি বা সিবিআই-এর হাত থেকে বাঁচতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ‘খারাপ’ তৃণমূলীরা কংগ্রেসে আসবে না দাবি করে শুভঙ্কর সরকার জানান, তাঁদের দলে কোনো ‘ওয়াশিং মেশিন’ নেই। ফলে, এই ভাঙনের জেরে কেবল অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাওয়া এবং রাহুল গান্ধীর আদর্শে বিশ্বাসী নিষ্ঠাবান কর্মীরাই কংগ্রেসে শামিল হবেন, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলবে।