এক বাড়ি এক LPG কানেকশন নীতি, ডাবল সিলিন্ডার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত সরকারের!

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজি গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া। এই পরিস্থিতিতে দেশে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলা করতে এবং বণ্টন ব্যবস্থা সুসংহত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ‘এক পরিবার এক গ্যাস সংযোগ’ নীতি কার্যকর করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর সাধারণ গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হলেও, তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি স্পষ্ট জানিয়েছে যে ঢালাওভাবে সবার সিলিন্ডার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না। মূলত এলপিজি এবং পিএনজি (পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস) উভয় সংযোগ একসঙ্গে রাখার ক্ষেত্রেই এই কড়াকড়ি নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ডাবল সংযোগের নিয়ম এবং সিলিন্ডার বাতিলের সময়সীমা
সরকারি সংশোধিত গ্যাস নিয়ন্ত্রণ আদেশ অনুযায়ী, কোনও গ্রাহকের বাড়িতে যদি পাইপযুক্ত প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি সংযোগ সচল থাকে, তবে তিনি একই সঙ্গে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে পারবেন না। একই পরিবারে এলপিজি এবং পিএনজি উভয় সংযোগ একসঙ্গে রাখা আইনত লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। নিয়ম অনুযায়ী, পিএনজি সংযোগ চালু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে গ্রাহককে তাঁর এলপিজি সিলিন্ডারটি সংশ্লিষ্ট গ্যাস এজেন্সিতে সমর্পণ করতে হবে। নির্দিষ্ট এই সময়সীমার মধ্যে সিলিন্ডার জমা না দিলে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম বা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি গ্রাহকের এলপিজি সংযোগটি স্থায়ীভাবে বাতিল করে দেবে। বর্তমানে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি ডেটাবেস যাচাই করে এই ধরণের ডাবল সংযোগকারী গ্রাহকদের চিহ্নিতকরণের কাজ দ্রুত গতিতে শুরু করেছে।
কোন পরিস্থিতিতে এলপিজি সিলিন্ডার ফেরত দিতে হবে না
নতুন এই নিয়ম নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের কাছে যদি এলপিজি-র ডাবল সিলিন্ডার (DBC) কানেকশন থাকে, তবে তা ফেরত দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। এই নিয়মটি শুধুমাত্র পিএনজি এবং এলপিজি উভয় সংযোগ একসঙ্গে রাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এছাড়া, যদি কোনও গ্রাহক তাঁর পিএনজি সংযোগের কারণে এলপিজি সিলিন্ডার সমর্পণ করেন, তবে তিনি একটি ‘ট্রান্সফার ভাউচার’ সংগ্রহ করতে পারেন। এর সুবিধা হলো, পরবর্তীতে তিনি যদি এমন কোনও এলাকায় স্থানান্তরিত হন যেখানে পিএনজি লাইন নেই, তবে এই ভাউচারের মাধ্যমে সহজেই পুনরায় এলপিজি সংযোগ ফিরে পাবেন।
পাশাপাশি, যদি শহরের গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা লিখিতভাবে প্রত্যয়ন করে যে পরিকাঠামোগত বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও নিরাপত্তা জনিত কারণে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় পিএনজি সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব নয়, তবে সেই সমস্ত পরিবারের এলপিজি সংযোগ বহাল থাকবে। এর বাইরে, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুমোদিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে না। তবে যেসব এলাকায় পিএনজি পাইপলাইন থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংযোগ নেননি অথবা পিএনজি সচল থাকার পরও এলপিজি ব্যবহার করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঘরোয়া সিলিন্ডার বুকিং বা রিফিল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।