‘বিজেপিকে না সরিয়ে মরব না’, মমতার মন্তব্যে সুর চড়ালো গেরুয়া শিবির

‘বিজেপিকে না সরিয়ে মরব না’, মমতার মন্তব্যে সুর চড়ালো গেরুয়া শিবির

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হার্ট অ্যাটাক বিতর্ক ঘিরে উত্তাল রাজনৈতিক অঙ্গন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিজেপি কর্মীরা তাঁর মৃত্যু কামনা করছেন এবং তাঁর হার্ট অ্যাটাক হওয়া উচিত বলে প্রচার চালাচ্ছেন। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু কিংবা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ক্ষমতা হারানোর পরও তাঁদের কখনোই এমন ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং হার মানবেন না।

রাজনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধ ও পালটা অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের জনভিত্তি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট চরমে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের কটাক্ষ, যিনি নিজের দলের বিধায়ক বা কর্মীদের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁর পক্ষে দেশের রাজনীতি থেকে বিজেপিকে হটিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখা অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। একে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য তোলা সস্তা অভিযোগ হিসেবেই দেখছে বিজেপি।

ঘটনাটির গভীরে তাকালে দেখা যায়, তৃণমূল ও বিজেপির এই তীব্র সংঘাত মূলত রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনী লড়াইয়ের আবহ তৈরি করছে। এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নমূলক ইস্যুর বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মৃত্যু কামনা নিয়ে এই বিতর্ক রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়কেই স্পষ্ট করে তুলছে। তৃণমূল ও বিজেপির এই রেষারেষি আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *