বিধাননগরের মেয়র পদ ছাড়লেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, তবে কি এবার তৃণমূল ছাড়ার পালা?

বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা কৃষ্ণার! পরবর্তী গন্তব্য কি অজানা?
বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার সশরীরে পুর কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও কাউন্সিলর হিসেবে মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে যখন একের পর এক পুর প্রশাসক ও জনপ্রতিনিধিদের সরে দাঁড়ানোর হিড়িক পড়েছে, ঠিক সেই সময়ে কৃষ্ণার এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের আড়ালে রাজনীতির সমীকরণ
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, পারিবারিক প্রয়োজনে এবং ১৬ বছর বয়সী ছেলের সময় দেওয়ার জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলের সঙ্গে কোনো অভিমান নেই দাবি করলেও, তৃণমূলের অন্দরে চলা মহাবিদ্রোহের আবহে তাঁর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর থেকে একের পর এক আস্থা হারানোর ঘটনায় বিধাননগরের মেয়র পদ ছাড়ার বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। কৃষ্ণা চক্রবর্তী কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা জানালেও, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলের অন্যান্য বিদ্রোহী নেতাদের পথে তিনি হাঁটবেন কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে চর্চা।
পুর প্রশাসনে নজিরবিহীন অস্থিরতা
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফাপ্রস্তাব থেকে শুরু করে রাজ্যের একাধিক পুরনিগমে সৃষ্ট অস্থিরতা—সব মিলিয়ে তৃণমূলের ভিত যেন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে কাউন্সিলরদের গ্রেফতারি এবং দলের অভ্যন্তরে নেত্রীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বিদ্রোহ এই ইস্তফার প্রেক্ষাপট আরও জটিল করে তুলেছে। বিধাননগরের মেয়রের এই পদত্যাগ সেই অস্থিরতার আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। এখন দেখার বিষয়, কৃষ্ণার উত্তরসূরি হিসেবে কে আসেন এবং বিধাননগর পুরনিগমের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়।