তৃণমূল আমলে কাটমানির ‘পুরস্কার’! গণরোষ থেকে বাঁচতে খাটের নিচে লুকিয়ে তৃণমূল নেতা
কাটমানির অভিযোগে খাটের তলায় তৃণমূল নেতা, জনরোষে দিশেহারা দাপুটে শহিদুল
রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের পরপরই বদলে গেছে ক্ষমতার দাপট। এক সময় যে নেতার ভয়ে তটস্থ থাকত এলাকা, সেই তৃণমূল নেতা শহিদুল মিঞাই এখন আত্মরক্ষার জন্য আশ্রয় নিলেন খাটের নিচে। মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩১ নম্বর বুথের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, পঞ্চায়েত সদস্য বিউটি বিবির স্বামী শহিদুল সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কাটমানি হাতিয়ে নিতেন।
জনরোষের মুখে নেতার অসহায় আত্মসমর্পণ
তৃণমূল জমানায় এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানো শহিদুল মিঞার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। স্থানীয়দের দাবি, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নিয়েছেন তিনি। তৎকালীন শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাননি। কিন্তু পালাবদলের সাথে সাথেই পাল্টে গেছে পরিস্থিতি। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বুধবার চড়াও হলে প্রাণ বাঁচাতে শহিদুল নিজের বাড়ির খাটের নিচে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে মাথাভাঙা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং খাটের নিচ থেকে ওই নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আপাতত পুলিশ তাকে আটক করেছে।
প্রভাব খাটিয়ে কাটমানির কারবার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা শহিদুল স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠার পরেই দুর্নীতির পথ বেছে নেন। সরকারি প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের টাকা লুট করাই ছিল তার মূল কাজ। প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়াটাই ছিল তার কৌশল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই জনরোষের মধ্য দিয়ে। এই ঘটনা একদিকে যেমন দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের পরিণতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের তীব্রতাকেও স্পষ্ট করে তুলেছে।