অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া স্ক্রুটিনি, ৭০ হাজার কোটির কোষাগার সামলাতে বাদ পড়ছেন কারা?

রাজ্যে মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। বুধবার নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২৮.২৫ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে স্থানান্তরের মাধ্যমে এই মেগা প্রকল্পের সূচনা করেন। তবে প্রকল্প শুরুর প্রথম দিন থেকেই অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নজিরবিহীন কড়া স্ক্রুটিনির পথে হেঁটেছে রাজ্য প্রশাসন।
সরকারি অনুমান অনুযায়ী, এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কারণে রাজ্যের কোষাগারের ওপর বার্ষিক প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকার বিশাল আর্থিক চাপ পড়বে। এই বিপুল ব্যয়ভার সামাল দিতে এবং প্রকৃত দুঃস্থ নারীদের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দিতেই সরকার এবার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। পূর্ববর্তী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে অযোগ্য উপভোক্তাদের নাম থাকা এবং বেনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার শুরু থেকেই কড়াকড়ি করা হচ্ছে।
বিডিও থেকে ডিএম স্তরে বহুস্তরীয় যাচাই
অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত করতে একটি জটিল ও বহুস্তরীয় প্রশাসনিক স্ক্রুটিনি মডেল তৈরি করা হয়েছে। আবেদনপত্র জমা হওয়ার পর প্রথমে ব্লক স্তরের আধিকারিকরা মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করবেন। এরপর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও (BDO) সেই তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করবেন। বিডিও স্তরের স্ক্রুটিনি শেষে জেলাশাসকের (DM) দপ্তর থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন মেলার পরই কোনো আবেদনকারী উপভোক্তা হিসেবে গণ্য হবেন।
স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রকাশ হবে তালিকা
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবার উপভোক্তাদের সম্পূর্ণ তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, তালিকা পাবলিক ডোমেইনে থাকার ফলে যে কেউ অযোগ্য উপভোক্তাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ জানাতে পারবেন। আবার অন্যদিকে, কোনো যোগ্য উপভোক্তার নাম ভুলবশত বাদ পড়লে তিনিও সংশোধনের জন্য পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন। প্রতিটি অভিযোগ প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হবে।
অনলাইনে আবেদনের জন্য ইতিমধ্যে একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল চালু করা হয়েছে এবং আগামী তিন মাস ধরে এই নথিভুক্তি প্রক্রিয়া সচল থাকবে। যোগ্য নারীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনে সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১১ পাতার বিস্তারিত ফর্ম পূরণে সহায়তা করবেন বলেও জানানো হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, অন্নপূর্ণা যোজনার এই কড়া স্ক্রুটিনি ও তালিকা প্রকাশের মডেল সফল হলে, ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও একই স্বচ্ছতা নীতি কার্যকর করা হতে পারে।