ইনস্টাগ্রামের ক্ষোভ ব্যালট বক্স নয়, জেন জি-কে সিস্টেমে ঢুকে লড়াইয়ের বার্তা শশী তারুরের

পরীক্ষাকেন্দ্রে লাগাতার জালিয়াতি, প্রশ্ন ফাঁস এবং দুর্নীতি নিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জমে থাকা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। আগামী ৬ জুন ভারতে আসছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তারপর দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে তিনি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। রাতারাতি তৈরি হওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক মঞ্চটি এখন ‘জেন জি’-র ক্ষোভের মস্ত বহিঃপ্রকাশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণদের পাশে দাঁড়িয়ে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় একটি বিশেষ খোলা চিঠিতে নিজের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও পরামর্শ দিয়েছেন তিরুভানন্তপুরমের সাংসদ।
পচে যাওয়া ব্যবস্থার ভয়ঙ্কর মানবিক অভিঘাত
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায়, বিশেষ করে নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ড এবং সিবিএসই-র ওএসএম (CBSE-OSM) সিস্টেমের কেলেঙ্কারিতে তরুণদের ক্ষোভকে একশো শতাংশ যুক্তিযুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন শশী তারুর। তিনি জানান, যখন কেউ নিজের জীবনের সোনালি বছরগুলো কোনও একটা স্বপ্নের জন্য উৎসর্গ করে দেয় এবং তারপর সিস্টেমের ব্যর্থতার খবর সামনে আসে, তখন তা হয়ে দাঁড়ায় একটা বড় বিশ্বাসঘাতকতা। এর জেরে যখন কোনও হতাশ পড়ুয়া আত্মহননের পথ বেছে নেয়, তখন বোঝা যায় এই পচে যাওয়া ব্যবস্থা কোনও কাল্পনিক বিষয় নয়, এর একটা বাস্তব এবং ভয়ঙ্কর মানবিক অভিঘাত রয়েছে যা সমাজের মূল ভিতকে নাড়িয়ে দেয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইনস্টাগ্রাম আজ তরুণদের আড্ডার জায়গা হতে পারে, কিন্তু এটা ব্যালট বক্স নয়।
শুধু মিম আর স্লোগান নয়, তারুরের কড়া দাওয়াই
আন্তর্জাতিক স্তরে কাজ করা সাবেক এই কূটনীতিবিদ সতর্ক করেছেন যে, শুধু সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। ক্ষোভের আগুনকে কাজে লাগিয়ে স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরি করতে হলে ঠান্ডা মাথা এবং সুনির্দিষ্ট কৌশলের প্রয়োজন। এই অনড় ও অনমনীয় ব্যবস্থার বাইরে দাঁড়িয়ে চিৎকার না করে, তার ভেতরে ঢুকে চাপ সৃষ্টি করাটাই সবথেকে কার্যকর পথ। এই লক্ষ্যে তিনি তরুণদের জন্য তিনটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রথমত, স্থানীয় বিধায়ক এবং সাংসদদের অফিসগুলিতে সুনির্দিষ্ট অভাব-অভিযোগের চিঠি দিয়ে ভরিয়ে দিতে হবে, যাতে জনপ্রতিনিধিরা এই বিষয়গুলি সংসদের ভেতরে ও বাইরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে বাধ্য হন। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং নিয়োগের কোটা সংক্রান্ত সমস্ত গরমিল ধরতে ব্যাপকভাবে আরটিআই বা তথ্যের অধিকার আইন ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয়ত, আন্দোলনের পেশাদারিকরণ ঘটিয়ে ছাত্র সংগঠন, আইনি যৌথ মঞ্চ বা পলিসি অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। আবেগঘন কথার বদলে যখন আইনি ভাষায় আইনি লড়াই ও পিটিশন ড্রাফট করা সম্ভব হবে, তখন প্রশাসন আর তরুণদের এড়িয়ে যেতে পারবে না।
জনমিতির সংখ্যাগুরুরাই ঠিক করবে দেশের অভিমুখ
তরুণ প্রজন্মকে তাদের ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে থারুর লিখেছেন, এই বিশাল দেশের জনমিতির নিরিখে তোমরাই মেজরিটি বা সংখ্যাগুরু এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তোমরাই সবথেকে সাবলীল। ফলে দেশের অভিমুখ কোন দিকে ঘুরবে, তা ঠিক করার নৈতিক অধিকার ও ক্ষমতা দুই-ই এই প্রজন্মের রয়েছে। তরুণদের এই রাগ যেন কিছুদিনের মধ্যে ঝিমিয়ে গিয়ে উদাসীনতায় বদলে না যায়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।