কলকাতা বন্দরে দেশবিরোধীদের মদত ও মাফিয়ারাজ রুখতে কড়া নজরদারির পথে রাজ্য সরকার

কলকাতা বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা আন্তর্জাতিক পাচারচক্র ও মাফিয়ারাজ নির্মূল করতে এবার নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ক্ষতি রুখতে এবার যৌথভাবে ময়দানে নামছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনও ধরনের আপস করা হবে না।
আজ, বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই কড়া ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কলকাতা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ কাজকর্ম বন্ধ করতে এখন থেকে প্রতি মাসে কলকাতা পুলিশ, সিআইএসএফ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের অধিকর্তা, কাস্টমস, কলকাতা পুরনিগম এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্তারা নিয়মিত সমন্বয় বৈঠকে বসবেন।
জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা
কলকাতা বন্দরকে কেন্দ্র করে অতীতেও একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এমনকী এখান থেকে বিদেশি গুপ্তচর গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের আশঙ্কা, গার্ডেনরিচের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত গোপনীয় ব্লুপ্রিন্ট হাতিয়ে নেওয়ার নেপথ্যে পাকিস্তানের মতো বিদেশি গুপ্তচর সংস্থা এবং চিনের মদত ছিল। এই ধরনের আন্তর্জাতিক চক্র জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। এবার সেই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই যৌথ নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মদত ও মাফিয়ারাজের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করে জানান, আগে শাসকদলের পুরসভার কাউন্সিলরের নেতৃত্বে কলকাতা বন্দরে প্রকাশ্য মাফিয়ারাজ চলত। এই মাফিয়ারা বন্দর থেকে নিয়মিত পণ্য চুরি করে তা কালোবাজারে বিক্রি করত, যার ফলে সরকারি কোষাগার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছিল। অতীতে সিআইএসএফ এবং কলকাতা পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের সুযোগ নিয়েই এই অপরাধচক্র ডালপালা মেলেছিল। প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই দূরত্বের অবসান ঘটবে এবং বন্দর চত্বরে কড়া আইনি শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে।