রুপোর গ্লাসে জল খান কঙ্গনা, বড়লোকি শখ নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আসল বিজ্ঞান!

বলিউড তারকাদের জীবনযাপন আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে পার্থক্য অনেক। তবে সম্প্রতি অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের একটি অভ্যাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এক চলচ্চিত্রের ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে দর্শকাসনে বসে সহকারীকে দিয়ে বোতল থেকে রুপোর গ্লাসে জল ঢালিয়ে খেতে দেখা যায় তাঁকে। এর আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও জনসমক্ষে কঙ্গনাকে রুপোর গ্লাস ব্যবহার করতে দেখা গেছে। নেটনাগরিকদের একাংশ বিষয়টিকে কেবলই ‘বড়লোকি শখ’ হিসেবে দেখলেও, পুষ্টিবিদ ও আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ খুঁজে পেয়েছেন।
কঙ্গনা রানাউত নিজে এই অভ্যাসের ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, গ্লাসটি তাঁর অত্যন্ত পুরনো। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী রুপোর সঙ্গে চাঁদের গভীর যোগসূত্র রয়েছে এবং এই ধাতু শরীরকে শীতল করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের শরীরে পিত্তজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রুপোর প্রাচীন বিজ্ঞান
পুষ্টিবিদদের মতে, রুপো প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবেই জীবাণুরোধী। রুপোর পাত্রে জল রাখলে বা জল পান করলে তার মধ্যে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস বা ভাইরাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনষ্ট হয়। ফলে শরীরে পুরোপুরি বিশুদ্ধ ও রোগজীবাণুমুক্ত জল পৌঁছায়। এছাড়া প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতিতে সদ্যোজাত শিশুকে রুপোর ঝিনুকে দুধ খাওয়ানো বা অন্নপ্রাশনে রুপোর থালা-বাটি ব্যবহার করার মূল কারণও ছিল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি করা। রুপোর সংস্পর্শে খাবারের পুষ্টিগুণ দীর্ঘ সময় অক্ষুণ্ণ থাকে।
শারীরিক ও মানসিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, রুপোর পাত্র ব্যবহারের একটি মনস্তাত্ত্বিক দিকও রয়েছে। সাধারণ কাচ বা স্টিলের তুলনায় রুপোর গ্লাস মূল্যবান হওয়ায় মানুষ এটি ব্যবহারের সময় অনেক বেশি সচেতন থাকে। এর ফলে বারবার জল পানের প্রতি এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়, যা শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করতে পরোক্ষভাবে সাহায্য করে। কঙ্গনার এই অভ্যাসটি আধুনিক সমাজে প্রাচীন স্বাস্থ্য সচেতনতাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, যা আগামী দিনে সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বাস্থ্যকর পাত্র ব্যবহারের প্রবণতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।