খুলছে জট, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে আবাস যোজনার চূড়ান্ত তালিকার লক্ষ্যমাত্রা রাজ্যের

দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় চালু হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পুনরায় আসতে শুরু করায় রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশন-নির্ভর একাধিক বড় প্রকল্পের পুনরুজ্জীবনে রাজ্যজুড়ে কর্মসংস্থান, আবাসন এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। এই উদ্যোগের অধীনে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (MGNREGA), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (PMAY-G) এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY) সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আবার সক্রিয় করা হয়েছে।
আবাস যোজনা ও সড়ক পরিকাঠামোয় বড় সিদ্ধান্ত
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণের আওতায় বর্তমানে ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ সমীক্ষার কাজ জোরকদমে চালানো হচ্ছে। প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই প্রক্রিয়া চলছে, যা আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই যাচাই-বাছাই পর্ব শেষে আবাসের ঘর প্রাপকদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পাশাপাশি, গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন মিলেছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
১০০ দিনের কাজ ও নতুন কর্মসংস্থান মিশন
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পকে ঘিরে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর MGNREGA প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ডধারী আবার কাজের সুযোগ পাবেন। এই সংক্রান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
আগামী ১ জুলাই থেকে সারা দেশে ‘বিকশিত ভারত: গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ নামে একটি নতুন কাঠামোয় কর্মসংস্থান প্রকল্প শুরু হতে চলেছে। নতুন এই ব্যবস্থায় উপভোক্তাদের জন্য বছরে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কাজের সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্মহীন ভাতার বিধানও রাখা হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ও গ্রামীণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।