এ বার মমতার সংসদীয় দলেও বড় ভাঙনের মেঘ, দিল্লিতেও তুঙ্গে অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার সংসদীয় দলেও বড় ধরনের ভাঙন এবং অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর এবার খোদ দিল্লিতে দলের অন্দরে দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তীব্র রূপ ধারণ করেছে। সূত্রের খবর, লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতা হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং দলের একাধিক সাংসদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ ক্রমশ কমে আসছে। বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান এবং অভিষেকের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণ এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। লোকসভায় এই সম্ভাব্য বিদ্রোহের নেতৃত্বে বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম উঠে আসছে এবং রাজ্যসভায় সুখেন্দুশেখর রায়ের অবস্থান নিয়েও দলের অস্বস্তি বাড়ছে।
অভ্যন্তরীণ কলহ এবং জাতীয় রাজনীতির চাপ
দলের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সাংসদদের পারস্পরিক বিরোধ। চিফ হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাম্প্রতিক মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে এবং কাকলি ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দিল্লিতে তৃণমূলকে আরও চাপে ফেলতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ এবং ডিলিমিটেশন বিলের মতো সাংবিধানিক পদক্ষেপের তোড়জোড় চলছে। এই জোড়া সংকটের কারণে দলের সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল নেতৃত্ব এখন থেকেই আইনি পরামর্শ নিতে শুরু করেছে। লোকসভার স্পিকারের ভূমিকার ওপর কড়া নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকের পাশাপাশি শীর্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও এনসিপি মামলার নজির মাথায় রেখে এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত আদালত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দিকেই মোড় নিতে চলেছে, যা রাজ্যের শাসক দলের রাশ আলগা করে দিতে পারে।