মেগা প্রকল্পের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে বাংলার জলপথ, গঙ্গাসাগর মেলা পাচ্ছে আন্তর্জাতিক তকমা!

মেগা প্রকল্পের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে বাংলার জলপথ, গঙ্গাসাগর মেলা পাচ্ছে আন্তর্জাতিক তকমা!

নবান্নে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল ও প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রাজ্যের জলপথ ও উপকূলীয় পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্পে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। এই মেগা প্রকল্পের অধীনে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি বিশাল প্রস্তাবনা তৈরি করছে রাজ্য সরকার, যার মূল লক্ষ্য রাজ্যের শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি-রফতানি ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা। একই সঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে এবং কলকাতার ঐতিহ্যবাহী জলপথকে আধুনিকীকরণ করতে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।

সাগরমালা ২ ও উপকূলীয় উন্নয়ন

২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার এই মহাপরিকল্পনার আওতায় মূলত বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উপকূল অঞ্চলের মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, নয়াচর ও খেজুরি থেকে শুরু করে ওড়িশা সীমান্ত পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত সমস্যা দূর করতে বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় জোয়ার আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কলকাতায় দেশের ১৮তম ওয়াটার মেট্রো

কলকাতা ও শহরতলির যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়ে দেশের ১৮তম শহর হিসেবে তিলোত্তমায় চালু হতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার মেট্রো’। এই প্রকল্পের পাশাপাশি শহর ও শহরতলির নদী যোগাযোগের সুবিধার্থে ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি করা হবে, যার মধ্যে ৪১টির অনুমোদন ইতিমধ্যেই মিলেছে। এছাড়া জাতীয় জলপথের জন্য আরও ২৫টি জেটি তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কলকাতার ঐতিহাসিক ঘাট যেমন বাগবাজার, আহিরীটোলা, শোভাবাজার, মল্লিকঘাট, রামকৃষ্ণঘাট ও বাঁধা ঘাটের সৌন্দর্যায়ন এবং মেরামতির কাজ আগামী শারদীয় উৎসবের আগেই শেষ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গঙ্গাসাগরের আন্তর্জাতিকীকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রাজ্য সরকারের দীর্ঘদিনের অনুরোধ মেনে কপিল মুনির আশ্রম এবং সাগর দ্বীপের সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর পুণ্যার্থীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ গঙ্গাসাগর মেলা এবার আন্তর্জাতিক স্তরের মেলায় রূপান্তরিত হতে চলেছে, যার জন্য আশ্রম সংলগ্ন সৈকতের পরিস্থিতি উন্নত করা হবে। এছাড়া কলকাতা বন্দর এলাকায় জমি দখল ও বেআইনি কাজকর্ম রুখতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে পুরোনো কলকাতার ইতিহাস নিয়ে একটি আধুনিক মিউজ়িয়াম তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

এই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পরিবহণ ও শিপিং বিভাগকে আলাদা করে ওড়িশা বা উত্তরাখণ্ডের ধাঁচে ছোট বন্দর বা ‘মাইনর পোর্ট’ গড়ে তোলার যে দূরদর্শী ভাবনা রাজ্য সরকার নিয়েছে, তা ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং প্রতিবেশী রাজ্য ও দেশগুলোর সঙ্গে জলপথে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *