প্রেমের সাগরে নতুন ঝড়, জেন-জি মেতেছে ‘পাফার ফিশিং’ ডেটিং ট্রেন্ডে

প্রেমের সাগরে নতুন ঝড়, জেন-জি মেতেছে ‘পাফার ফিশিং’ ডেটিং ট্রেন্ডে

আধুনিক ডেটিংয়ের দুনিয়া দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে এই ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ডেটিং ট্রেন্ডের আত্মপ্রকাশ ঘটছে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে। বর্তমানে নেট দুনিয়া ও জেন-জি (Gen-Z) তথা নতুন প্রজন্মের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এমনই এক নতুন শব্দবন্ধ, যার নাম ‘পাফার-ফিশিং’। মানুষের এই বিশেষ মানসিক স্বভাবটি বহু পুরনো হলেও, সম্প্রতি এটি একটি নতুন এবং ভাইরাল নাম পেয়েছে। পাফার ফিশ বা পটকা মাছ যেমন বিপদের আঁচ পেলেই নিজের কাঁটা ফুলিয়ে গুটিয়ে নেয়, ডেটিংয়ের ক্ষেত্রেও ঠিক এমন আচরণকেই পাফার ফিশিং বলা হচ্ছে।

ঘনিষ্ঠতা বাড়লেই দূরত্ব তৈরির প্রবণতা

সম্পর্ক যখনই একটু সিরিয়াস বা গভীর হতে শুরু করে, ঠিক তখনই এই ঘরানার মানুষেরা আবেগগতভাবে দূরে সরে যেতে থাকেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, তাঁরা হঠাৎ করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন, যাকে চলতি কথায় ‘ঘোস্টিং’ বলা হয়, অথবা সোজাসুজি ব্রেক-আপ করে বসেন। ‘হোয়াই ডু আই কিপ ডুইং দিস?’ বইয়ের লেখিকা কেটি মর্টন এই ধারণাকে প্রথম সামনে আনেন। থেরাপিস্টদের মতে, এই আচরণের মূলে রয়েছে নিজের মানসিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার এক তীব্র ভয়।

সম্পর্কের শুরুতে এই ধরনের মানুষদের চেনা বেশ কঠিন। প্রথম দিকে এঁরা অত্যন্ত স্নেহশীল, আবেগময় এবং সম্পর্কের প্রতি মারাত্মক যত্নশীল হন। কিন্তু গোলমাল বাধে সম্পর্কটা ক্যাজুয়াল পর্যায় থেকে গভীর হতে শুরু করলে। রিলেশনশিপ এক্সপার্টদের মতে, এঁদের মধ্যে একটা অদ্ভুত ‘হট-অ্যান্ড-কোল্ড’ এনার্জি কাজ করে। সম্পর্ক সিরিয়াস হতে শুরু করলেই এঁরা মানসিকভাবে দূরে সরে যান, সঙ্গীর খুঁত ধরতে শুরু করেন বা কোনও কারণ ছাড়াই এড়িয়ে চলেন। সমস্যার কথা খোলাখুলি বলার বদলে এঁরা পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং কিছুদিন পর আবার এমনভাবে ফিরে আসেন যেন কিছুই হয়নি।

অতীতের প্রভাব ও সমাধানের পথ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণের শিকড় লুকিয়ে থাকতে পারে মানুষের ছোটবেলার পরিবেশে। যারা এমন পরিবারে বড় হয়েছেন যেখানে আবেগের কোনও দাম ছিল না কিংবা ভালোবাসা ছিল শর্তসাপেক্ষ, তাদের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠতা এক ধরনের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এর মানে এই নয় যে এঁরা খারাপ মানুষ। অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে সঙ্গীকে আঘাত করেন না, তাঁরা আসলে নিজেদের আবেগ নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এই আচরণের কারণে সঙ্গীর মানসিক উদ্বেগ বাড়তে থাকলে সম্পর্কটি একসময় অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।

মনোবিদদের মতে, প্রপার থেরাপি, নিজের প্রতি যত্ন এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। অস্বস্তি থেকে পালিয়ে না গিয়ে তার মুখোমুখি দাঁড়ানোই একমাত্র পথ। বারবার পালিয়ে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করা যায় না। পাফার-ফিশিং থেকে বেরিয়ে আসার মূল মন্ত্র হল এটা বুঝতে শেখা যে, মানুষের কাছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করা মানেই তা বিপদের সঙ্কেত নয়, বরং সম্পর্কের সমুদ্রে ভরসা রেখে এগিয়ে চলাই আসল সমাধান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *