অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনের স্থিতি জানার সহজ উপায়, আগামী তিন মাসেই শেষ সুযোগ!

মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে চালু হওয়া রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিপুল উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২৮ লক্ষেরও বেশি সুবিধাভোগী মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই যোজনার টাকা পৌঁছে গিয়েছে। অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই বর্তমানে এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া সচল রয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক আবেদনের মাঝে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে যে, তাঁদের জমা দেওয়া আবেদনটি আদৌ সফল হয়েছে কি না। এই দোলাচল দূর করতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘরে বসেই আবেদনের স্থিতি বা স্ট্যাটাস যাচাই করার ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ডিজিটাল মাধ্যমে স্ট্যাটাস চেকের সহজ ধাপ
আবেদনকারীরা অনলাইনের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাঁদের ফর্মের বর্তমান অবস্থা জেনে নিতে পারবেন। এর জন্য প্রথমে রাজ্য সামাজিক নিবন্ধীকরণ দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (https://socialregistry.wb.gov.in/) প্রবেশ করতে হবে। সেখানে থাকা ‘ট্র্যাক অ্যাপ্লিক্যান্ট স্ট্যাটাস’ অপশনে ক্লিক করে নির্দিষ্ট স্থানে আবেদনকারীর অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। এরপর স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে দিয়ে সার্চ বা সাবমিট বাটনে ক্লিক করলেই আবেদনের সর্বশেষ স্থিতি ও তা অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট দেখা যাবে। নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো আবেদনকারীর ফর্ম বাতিল হয়ে থাকে, তবে কী কারণে তা বাতিল হলো, সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে পোর্টালে সেই সুনির্দিষ্ট কারণও উল্লেখ করতে হবে।
আবেদনের কঠোর নিয়ম ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই যোজনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করতে রাজ্য সরকার অত্যন্ত বিস্তারিত ও কঠোর তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন করে যাঁরা আবেদন করছেন, তাঁদের ফর্ম পূরণের সময় পরিবারের প্রধান ও সদস্যদের বিশদ ব্যক্তিগত তথ্য, রেশন কার্ডের বিবরণ, জাতিগত শংসাপত্র এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি জমা দিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি পরিবারের বার্ষিক আয় ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মূল্যায়নের জন্য প্যান কার্ড, জমির মালিকানা, যানবাহনের বিবরণ, আয়কর ও জিএসটি প্রদানের তথ্য এবং পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী বা রাজনৈতিক পদাধিকারী কি না, তাও জানাতে হচ্ছে। এমনকি পরিবারের শিশুদের স্কুল ও টিকাকরণের তথ্যও এই ফর্মে চাওয়া হয়েছে।
এই ব্যাপক তথ্য সংগ্রহের মূল কারণ হলো সরকারি ভাতার অপব্যবহার রোধ করা এবং প্রকৃত অভাবী পরিবারগুলোকে এই আর্থিক সুরক্ষার আওতায় আনা। রাজ্য সরকার আগামী ৩ মাসের মধ্যে এই ফর্ম পূরণের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ফলে এই নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে সঠিক তথ্যসহ আবেদন সম্পন্ন না করলে অনেক যোগ্য উপভোক্তা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা প্রান্তিক পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে।