ছাব্বিশের ভোটে ধাক্কা, ‘বিদ্রোহী’দের ঘরে ফেরাতে তৎপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। একসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজে হাতে গড়ে তোলা দল আজ চরম ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়েছে। বহু হেভিওয়েট নেতা ও বিধায়ক মূল দল ত্যাগ করে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দরে ভাঙন রুখতে এবং সংগঠনকে পুনরায় জোটবদ্ধ করতে স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ময়দানে নেমেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী বিধায়কদের মানভঞ্জন করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই উদ্যোগী হয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যেই দলের একাধিক অসন্তুষ্ট ও বিদ্রোহী নেতার সঙ্গে ফোনে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন। একদা যাঁদের ওপর দলের মূল দায়িত্ব ছিল, তাঁরা এখন দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব। এমতাবস্থায় দলের রাশ ধরে রাখতে নেত্রী নিজেই ‘বিদ্রোহী’দের ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও ফোনে তাঁদের মধ্যে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে বা বরফ গলেছে কি না, সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য সামনে আসেনি।
ভাঙনের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আকস্মিক ভাঙনের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ, টিকিট বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ এবং নেতৃত্বের একাংশের প্রতি অনাস্থা বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এই অসন্তোষ আরও তীব্র রূপ ধারণ করে, যার ফলে বিধায়কদের একটি বড় অংশ ‘আসল তৃণমূল’ নাম নিয়ে মূল দল থেকে দূরত্ব তৈরি করে।
এই বিদ্রোহের ফলে রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের ভিত অনেকটাই নড়ে গিয়েছে। বিধানসভায় দলের শক্তি কমার পাশাপাশি সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ব্যক্তিগত ফোন করার পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দেয় যে, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি তিনি এই ‘বিদ্রোহী’দের পুনরায় মূল দলে ফিরিয়ে আনতে না পারেন, তবে আগামী দিনে দলের অস্তিত্ব এবং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে এখন তৃণমূল সুপ্রিমোর এই ড্যামেজ কন্ট্রোল কৌশল কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।