কর্নাটকে ‘যুব যুগ’ এর সূচনা, মসনদে বসেই পড়ুয়াদের বিনামূল্যে বাস সফরের বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারের

কর্নাটকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মসনদে বসেই বড়সড় চমক দিলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরেই তিনি প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন। আর সেই বৈঠক থেকেই রাজ্যের ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী এবং যুব সম্প্রদায়ের জন্য একগুচ্ছ যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন তিনি। শিবকুমারের এই নতুন উদ্যোগকে তিনি নিজেই ‘যুব যুগ’ বলে অভিহিত করেছেন, যা রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে চলেছে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর নয়া সরকার
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ডিকে শিবকুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে তার সরকার। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বিষয়টি শুধুমাত্র সাধারণ মানুষকে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দ্রুত সেগুলির বাস্তবায়ন করা হবে। এই লক্ষ্যে প্রথম দিন থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত ‘যুব যুগ’ পরিকল্পনার অধীনে রাজ্যের পড়ুয়ারা এবার থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া বেকারত্ব দূরীকরণ এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য একটি বিশেষ কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়াতে বিভিন্ন সরকারি পদে দ্রুত ৫৬ হাজার নিয়োগের বড়সড় ঘোষণা করা হয়েছে এই বৈঠকে। যুবকদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে ১০ হাজার নতুন যুব ক্লাব গড়ে তোলা হবে, যার প্রতিটি ক্লাবে ১৫০ থেকে ২০০ জন সদস্য থাকবেন এবং ক্লাবগুলি পরিচালনায় ১০ লক্ষ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
রাজনৈতিক মহলের মতে, শিবকুমার সরকারের এই জনমুখী সিদ্ধান্তগুলির ফলে রাজ্যের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে এক বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিনামূল্যে বাস সফরের সুবিধা পেয়ে স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের ড্রপ-আউট বা পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি, বিশাল সংখ্যার সরকারি নিয়োগের ঘোষণা রাজ্যের বেকার যুবকদের মধ্যে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। তবে এই বিপুল আর্থিক বরাদ্দের ফলে রাজ্যের কোষাগারের ওপর কতটা চাপ পড়বে এবং আগামী দিনে কৃষক ও শহুরে বাসিন্দাদের জন্য নেওয়া বাকি প্রকল্পগুলি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার।