তৃণমূলের ভাঙনে অক্সিজেন পেল কেন্দ্র, ২০২৯ সালের আগেই আসন পুনর্বিন্যাস কার্যকরে মরিয়া মোদি সরকার

তৃণমূলের ভাঙনে অক্সিজেন পেল কেন্দ্র, ২০২৯ সালের আগেই আসন পুনর্বিন্যাস কার্যকরে মরিয়া মোদি সরকার

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল এবং আঞ্চলিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ভাঙনকে কাজে লাগিয়ে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাসের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই এই বিল কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে সক্রিয়তা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অতীতে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়া এই সংবেদনশীল বিষয়ে এবার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন বিজেপি।

আঞ্চলিক দলে ভাঙন ও কেন্দ্রের রণকৌশল

গত এপ্রিল মাসে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস বিল একসঙ্গে পেশ করা হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে তা পাস করানো সম্ভব হয়নি। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসসহ একাধিক আঞ্চলিক দল এর তীব্র বিরোধিতা করেছিল। তবে মাত্র মাসদেড়েকের ব্যবধানে রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর দলটিতে বড়সড় ভাঙন ধরেছে। বিধায়কদের দলত্যাগ এবং একাংশ সংসদ সদস্যের ক্ষোভের কারণে ঘাসফুল শিবির এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে ক্ষমতা হারানোর পর ডিএমকে এবং কংগ্রেসের জোটেও ফাটল ধরেছে। আঞ্চলিক দলগুলোর এই দুর্বল অবস্থানের সুযোগ নিয়ে কেন্দ্র এবার সর্বসম্মত সমর্থনের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও দ্রুত বিল পাসের প্রস্তুতি

সূত্র মারফত জানা গেছে, বিল পাসের ক্ষেত্রে এবার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না কেন্দ্র। অতীতের রাজনৈতিক মতবিরোধ এড়াতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছে মোদি সরকার। বিশেষ করে তৃণমূল এবং ডিএমকে-র একটি বড় অংশ আসন পুনর্বিন্যাসের পক্ষে ভোট দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কৌশল সফল হলে দেশের লোকসভা আসনগুলোর ভৌগোলিক সীমানা এবং সংখ্যায় বড় পরিবর্তন আসবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন পুনর্বিন্যাস দ্রুত কার্যকর হলে তা জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিরোধী শিবিরের আঞ্চলিক প্রভাবকে অনেকটাই সংকুচিত করে তুলবে। শতভাগ সাফল্য নিশ্চিত করেই অত্যন্ত দ্রুত সংসদে এই বিল পুনরায় পেশ হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *