ভোট মিটলেই ‘ভ্যানিশ’ ট্রেন! হলদিবাড়িতে পরিষেবা বন্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে নিত্যযাত্রীরা

ভোট মিটতেই উধাও পরিষেবা, হলদিবাড়িতে রেলের সিদ্ধান্তে তুঙ্গে ক্ষোভ
লোকসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে ঘটা করে চালু হওয়া হলদিবাড়ি-বালুরঘাট এবং হলদিবাড়ি-বামনহাটগামী দুটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের চাকা ভোট মিটতেই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। গত ১১ মার্চ চালু হওয়া এই পরিষেবা গত ২২ মে থেকে রহস্যজনকভাবে বাতিল করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে সাময়িক বন্ধের কথা বলা হলেও, দফায় দফায় সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৮ জুন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। রেলের এই আচমকা সিদ্ধান্তে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ চরম বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের মধ্যে পড়েছেন।
অসহায় নিত্যযাত্রী ও ব্যাহত রুজি-রুটি
ট্রেন দুটি বন্ধ হওয়ায় শিলিগুড়িগামী রোগী ও নিত্যযাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করাতে যাওয়া সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থী ও চাকুরিজীবীরা বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়া দৈনন্দিন রোজগার করে বাড়ি ফেরা টোটোচালক ও ছোট ব্যবসায়ীদের আয়ের ওপরও এর বড় প্রভাব পড়ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে আগেভাগে ট্রেন ধরার চেষ্টা করছেন, যা তাদের সময়সূচী ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।
রেলের রহস্যজনক নীরবতা ও নাগরিক প্রতিবাদ
এই গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন পরিষেবা কেন হুট করে বন্ধ করা হলো, সে বিষয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। রেল কর্তৃপক্ষের এই নীরবতাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে ‘হলদিবাড়ি-জলপাইগুড়ি রেল উন্নয়ন নাগরিক মঞ্চ’ সরব হয়ে উঠেছে। সংগঠনের অভিযোগ, হলদিবাড়ি স্টেশনকে ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ হিসেবে ঘোষণার পরও পর্যাপ্ত দূরপাল্লার ট্রেনের অভাব রয়েছে। নতুন চালু হওয়া পরিষেবাগুলো এভাবে বন্ধ করে দেওয়া উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল। অবিলম্বে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার দাবিতে ইতিমধ্যে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে নাগরিক মঞ্চ।