“ঢের হয়েছে, আর নয়!” রাজনীতিকে বিদায় জানালেন তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী

ঢের হয়েছে আর নয়, রাজনীতির ময়দান ছাড়লেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা তীব্র অস্বস্তি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ের জেরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। রাজ্যে পালাবদলের পরবর্তী উত্তাল সময়ে তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যেখানে দলের অনেক নেতা ভোল বদলে নতুন শাসকদলের দিকে ঝুঁকছেন, সেখানে স্নেহাশিস চক্রবর্তীর এই রাজনৈতিক সন্ন্যাসকে বর্তমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক অবক্ষয় ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের যন্ত্রণা
হুগলির জাঙ্গীপাড়া কেন্দ্রে সামান্য ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই স্নেহাশিস চক্রবর্তী নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং পরাজয়ের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির সংস্কৃতি তাঁকে চূড়ান্ত হতাশ করেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও তাঁকে দেখা যায়নি। বুধবার নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, কুৎসা, অপপ্রচার এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির সঙ্গে তিনি আর নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছেন না।
পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পথ
স্নেহাশিস বাবুর মতে, বাংলার রাজনীতিতে এই নোংরা পরিবেশ নতুন নয়; বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূলের শাসনকাল—সব ক্ষেত্রেই এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই অবক্ষয়িত পরিবেশের চেয়ে বরং লেখালেখি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখাই তিনি শ্রেয় মনে করেছেন। ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে তাঁর এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত যেমন দলের অন্দরের অস্থিরতাকে প্রকাশ্যে এনেছে, তেমনি রাজনীতির নামে চলা অশালীন সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।