তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহে নতুন মোড়, ‘দিদিকেই চাই’ দাবিতে সরব বিধায়করা

দিদির অনুগতরাই এখন দলের আসল চালিকাশক্তি! হাওড়ায় তৃণমূলের অন্দরে নতুন হাওয়া
হাওড়ার রাজনীতির অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা টানাপোড়েন আরও ঘনীভূত হয়েছে। দলের একাংশের বিদ্রোহী মনোভাবের পাল্টা জবাব দিয়ে পাঁচলার বিধায়ক গুলশান মল্লিক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল দলের পথপ্রদর্শক নন, তিনিই তৃণমূলের একমাত্র নেত্রী। এই মন্তব্য রাজ্যের শাসকদলের ভেতরের অস্থিরতাকে আরও একবার প্রকাশ্যে নিয়ে এল।
নেত্রী বনাম পথপ্রদর্শক বিতর্কে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
গুলশান মল্লিকের দাবি, দলের কোনো স্তরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেবল পরামর্শদাতা বা পথপ্রদর্শক হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। হাওড়ার একাধিক বিধায়ককে নিয়ে হওয়া বৈঠকে এই অবস্থান আরও জোরদার করা হয়েছে। মূলত দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার কোনো প্রচেষ্টাই যে তৃণমূলের নিচুতলার জনপ্রতিনিধিরা মেনে নেবেন না, তা এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। এই বিদ্রোহের মূল কারণ হিসেবে তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হওয়া মতপার্থক্যকে দেখা হচ্ছে।
বিদ্রোহী শিবিরে ভাঙনের ইঙ্গিত
এদিকে, পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের কার্যকলাপে। বুধবার বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে আলাদা করে শক্তি প্রদর্শনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই শিবিরে ফাটল ধরেছে। জানা যাচ্ছে, যারা গতকাল পর্যন্ত বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে দলে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের বিধায়কদের এই দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন প্রমাণ করছে যে, দলের ভেতরে মমতার প্রভাব এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে এই ঘটনার জেরে হাওড়া তথা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ভাঙন রুখতে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।