স্বস্তির বৃষ্টির আড়ালে মরণফাঁদ: বজ্রপাতে রাজ্যে ঝরল ৭ প্রাণ, শোকের ছায়া

স্বস্তির বৃষ্টির আড়ালে মরণফাঁদ: বজ্রপাতে রাজ্যে ঝরল ৭ প্রাণ, শোকের ছায়া

স্বস্তির বৃষ্টিতে বজ্রপাতের মরণফাঁদ, রাজ্যজুড়ে প্রাণ হারালেন সাতজন

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি নামলেও তা বয়ে আনল চরম বিপর্যয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যজুড়ে আচমকা শুরু হওয়া কালবৈশাখী ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির দাপটে প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন। একই দিনে একাধিক জেলায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে জনজীবনে।

একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শোকের মাতম

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে। বিকেলে মাঠের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের তিনজন—বিশ্বনাথ সরকার, তাঁর স্ত্রী পুষ্পা সরকার এবং ১১ বছরের কন্যা নন্দিতা সরকার। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। একই জেলায় তপন থানার ঝাড়পুকুর এলাকায় মাঠ থেকে খড় নিয়ে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে সন্ধ্যা রায় নামে এক বধূর।

বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতের ভয়াবহতা

শুধুমাত্র দক্ষিণ দিনাজপুর নয়, মুর্শিদাবাদ ও জলপাইগুড়ি জেলাতেও বজ্রপাত কেড়েছে প্রাণ। মুর্শিদাবাদের সুতি থানার নয়াগ্রামে আম কুড়োতে গিয়ে ১৪ বছরের কিশোর আবুল কাসেম শেখ ও ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেওয়া শেখ আব্দুর রশিদ নামে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে। জলপাইগুড়ির সদর ব্লকের কাদোবাড়িতে রাজা দাস নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঝড়-বৃষ্টির কারণ ও প্রভাব

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশে মেঘের ঘর্ষণের ফলে তৈরি হওয়া সক্রিয় বজ্রগর্ভ মেঘ থেকেই এই আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণেই বজ্রপাতের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। হঠাৎ শুরু হওয়া এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় মাঠে কর্মরত মানুষ ও খোলা আকাশের নিচে থাকা ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। প্রশাসনিক স্তরে এই পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও, অকাল দুর্যোগের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহগুলি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *