ওষুধের আগেই সমাধান শ্বাসে? রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার সেরা ৫ প্রাণায়াম ও ২টি মুদ্রা!
August 8, 20269:28 am

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় “সাইলেণ্ট কিলার”। জীবনযাত্রার অনিয়মই এর অন্যতম কারণ। আপনি কি জানেন, সঠিক নিয়মে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার অভ্যাস আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে রক্তনালী শিথিল রাখতে পারে?
তবে মনে রাখবেন, এটি কোনো ওষুধের বিকল্প নয়—বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের একটি অংশ। ডাক্তারের পরামর্শের পাশাপাশি প্রতিদিন ১৫ মিনিট নিচের ৫টি প্রাণায়াম ও ২টি মুদ্রা অনুশীলন করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চমকপ্রদ ফল পাওয়া যায়।
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ৫টি সেরা প্রাণায়াম
- অনুলোম-বিলোম (নাড়ি শোধন):
- কীভাবে করবেন: ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে ডান নাক বন্ধ করে বাঁ নাক দিয়ে শ্বাস নিন। এরপর বাঁ নাক বন্ধ করে ডান নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন।
- উপকারিতা: মানসিক চাপ কমায়, হার্ট রেট ও বিপি স্বাভাবিক রাখে। (সময়: ৫-১০ মিনিট)
- ভ্রামরী প্রাণায়াম:
- কীভাবে করবেন: চোখ বন্ধ করে দুই কানে আঙুল দিন। এবার বুক ভরে শ্বাস নিয়ে ছাড়ার সময় ভ্রমরের মতো “ম্মম” শব্দ করুন।
- উপকারিতা: রাগ ও উদ্বেগ কমায়, যা রক্তচাপ বাড়ার প্রধান কারণ। (সময়: ৫-৭ বার)
- শীতলী প্রাণায়াম:
- কীভাবে করবেন: জিব নলের মতো গোল করে মুখ দিয়ে শ্বাস নিন এবং নাক দিয়ে ছাড়ুন।
- উপকারিতা: শরীর ও মস্তিষ্ক ঠান্ডা করে প্রেসার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। (সময়: ৫-৮ বার)
- চন্দ্রভেদী প্রাণায়াম:
- কীভাবে করবেন: কেবল বাঁ নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে ডান নাক দিয়ে ছাড়ুন।
- উপকারিতা: একে ‘কুলিং ব্রেথ’ বলা হয়, যা শরীর শান্ত রাখে। (সময়: ৫ মিনিট)
- দীর্ঘ শ্বাস (Deep Belly Breathing):
- কীভাবে করবেন: সোজা হয়ে বসে পেট ফুলিয়ে ৪ সেকেন্ডে শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে ছাড়ুন।
- উপকারিতা: স্ট্রেস হরমোন কমায়। যেকোনো সময় করা যায়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ২টি শক্তিশালী মুদ্রা
- জ্ঞান মুদ্রা:
- কীভাবে করবেন: তর্জনী ও বুড়ো আঙুলের ডগা একসঙ্গে স্পর্শ করুন, বাকি ৩টি আঙুল সোজা রাখুন।
- উপকারিতা: ঘুম ভালো হয় এবং ব্রেন শান্ত থাকে। (সময়: ১৫-২০ মিনিট)
- অপান বায়ু মুদ্রা (হার্ট মুদ্রা):
- কীভাবে করবেন: তর্জনী ভাঁজ করে বুড়ো আঙুলের গোড়ায় রাখুন। মধ্যমা ও অনামিকার ডগা দিয়ে বুড়ো আঙুলের ডগা স্পর্শ করুন।
- উপকারিতা: হার্ট সুস্থ রাখে ও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে। (সময়: ১০-১৫ মিনিট)
নিয়ম ও বিশেষ সতর্কতা
কখন করবেন: সকালে খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর আগে শান্ত পরিবেশে বসুন। কখনোই ভরা পেটে অভ্যাস করবেন না।
- জরুরি সতর্কতা: বিপি খুব বেশি থাকলে, মাথা ঘুরলে বা গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অভ্যাস করবেন না।
- পরামর্শ: কোনো ব্যায়ামেই রাতারাতি অলৌকিক কিছু হয় না। নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি খাবারে নুন কম জানান, প্রতিদিন হাঁটুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমান।