জাল সই-কাণ্ডের তদন্তে এবার ফিরহাদের বাড়ি সিআইডি, মেয়রকে জিজ্ঞাসাবাদ তদন্তকারীদের

জাল সই কাণ্ডে এবার ফিরহাদ হাকিমের দুয়ারে সিআইডি
রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘জাল সই’ বিতর্কের তদন্তে এবার নতুন মোড়। বিধায়কদের নামে ভুয়ো স্বাক্ষরের অভিযোগের তদন্তে নেমে সরাসরি কলকাতা পুরসভার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বাসভবনে পৌঁছে গেলেন সিআইডি আধিকারিকরা। বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত এই চাঞ্চল্যকর মামলার জট খুলতে মেয়রের বয়ান গ্রহণ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর।
কালীঘাটের বৈঠকের নেপথ্য কাহিনি
তদন্তকারীদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে এই বিতর্ক ঘনীভূত হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বিধায়কদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। অভিযোগ, সেই বৈঠকে অনেক বিধায়ক উপস্থিত না থাকলেও নথিপত্রে তাঁদের স্বাক্ষর রয়েছে। এই স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটানোর চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। ফিরহাদ হাকিম যেহেতু সেই বৈঠকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন, তাই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তাঁর বয়ান এই তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তের প্রভাব ও সমীকরণ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে এবং রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠিয়েছে সিআইডি। একদিকে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েট নেতার বাড়িতে তদন্তকারীদের যাওয়া এই মামলার গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভুয়ো স্বাক্ষরের এই অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক সংকটের সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কে বা কারা এই জাল স্বাক্ষরের নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে এবং কাদের নির্দেশে এই নথিপত্র তৈরি হয়েছিল, ফিরহাদের বয়ান রেকর্ডের পর সিআইডি সেই রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।