ক্ষমতা হারানোর পর ভিআইপি তকমা বাদ! সাধারণ ভক্তদের মতোই কালীঘাট মন্দিরে লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দিলেন মমতা

ক্ষমতা হারানোর পর ভিআইপি তকমা বাদ! সাধারণ ভক্তদের মতোই কালীঘাট মন্দিরে লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দিলেন মমতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ক্ষমতাচ্যুতির পর এবার এক সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ দেড় দশক পর কোনো রকম বাড়তি প্রটোকল বা ভিআইপি (VIP) নিরাপত্তা ছাড়া, একেবারেই একজন সাধারণ পুণ্যার্থীর মতো কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে পুজো দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার তাঁর এই মন্দিরে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

সাধারণের সারিতে অপেক্ষারত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী

কালীঘাট বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত খাসতালুক এবং নিজের পাড়া হিসেবে পরিচিত। তবে এতদিন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি যখনই মন্দিরে যেতেন, তখন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিশেষ প্রটোকল বজায় থাকত। বৃহস্পতিবারের চিত্রটা ছিল তার উল্টো। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ক্ষমতা হারানোর পর সমস্ত রাজকীয় জাঁকজমক ঝেড়ে ফেলে সাধারণ ভক্তদের মতোই মন্দিরের সিঁড়ির ধারে লাইনে দাঁড়িয়ে গর্ভগৃহে যাওয়ার অপেক্ষা করছেন তৃণমূল নেত্রী। এরপর সাধারণের মতোই নিয়ম মেনে গর্ভগৃহে গিয়ে মায়ের চরণে অঞ্জলি ও পুজো দেন তিনি।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে যখন একের পর এক বিধায়কদের দলবদল, সই জাল কাণ্ড এবং তীব্র অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের জেরে দল কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কালীঘাট সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য রাজনীতিতে চরম কোণঠাসা পরিস্থিতিতে মানসিক শান্তি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক লড়াইয়ের শক্তি সঞ্চয় করতেই তিনি মায়ের দুয়ারে ছুটে গিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের সারিতে দাঁড়িয়ে পুজো দেওয়ার এই কৌশলকে তাঁর হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি বড় চেষ্টা হিসেবেও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্ষমতায় থাকাকালীন দলের নেতাদের অহংকার ও সাধারণ মানুষের থেকে দূরত্ব তৈরি হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, নিজেকে আবার ‘সাধারণ ঘরের মেয়ে’ হিসেবে তুলে ধরে তৃণমূল নেত্রী সেই ক্ষোভ প্রশমিত করতে চাইছেন। এই সরল জীবনযাত্রার প্রদর্শন আগামী দিনে নিচু স্তরের কর্মী-সমর্থকদের মানসিকভাবে কিছুটা চাঙ্গা করতে সাহায্য করতে পারে, যা তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে প্রতীকী গুরুত্ব বহন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *