মোদীর ওপর মার্কিন চাপ অর্থহীন, ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়ে ভারতের পাশে পুতিন

মোদীর ওপর মার্কিন চাপ অর্থহীন, ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়ে ভারতের পাশে পুতিন

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা এবং মস্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা নিয়ে ভারতের ওপর মার্কিন প্রশাসনের চাপ তৈরির কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে চলেছে। সেন্ট পিটার্সবার্গে বিশ্বের শীর্ষ সংবাদ সংস্থাগুলির প্রধানদের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাফ জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কোনো ধরনের চাপ দিয়ে প্রভাবিত করা আসাম্ভব। আমেরিকার নাম উল্লেখ করে পুতিন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশের নেতাকে চাপ দেওয়ার এই চেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও মস্কো-নয়াদিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী রাশিয়া। পুতিন ভারতকে একটি ‘অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য পার্টনার’ এবং ‘মহান গণতান্ত্রিক দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত সবসময় কোনো বিদেশি শক্তির চাপের কাছে মাথা নত না করে নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

চাপের নেপথ্য কারণ ও দ্বিপাক্ষিক অনড় অবস্থান

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের জেরে ভারতের ওপর ওয়াশিংটনের তরফ থেকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর জন্য ধারাবাহিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতের রুশ তেল আমদানির বিষয়ে একাধিকবার আপত্তি তোলা হয়। তবে পুতিন নিশ্চিত করেছেন যে, এই বাহ্যিক চাপের কোনো নেতিবাচক প্রভাব ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের ওপর পড়েনি। ভারত এখনও জ্বালানি, বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষার মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে রাশিয়ার সঙ্গে সমপরিমাণ ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলেছে।

অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সম্ভাব্য প্রভাব

পুতিনের এই প্রকাশ্য এবং দৃঢ় অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে দুই দেশের এই অনড় অবস্থান আগামী দিনে ওয়াশিংটনের কৌশলগত সমীকরণকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে। রাজনৈতিক এই দৃঢ়তার পাশাপাশি ভারত-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কও নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত মিলেছে। রুশ প্রেসিডেন্টের অনুমান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারে স্পর্শ করতে পারে, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *