সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ! লোকসভার রাশ কি এবার কাকলির হাতে?

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও ‘আসল তৃণমূল’ তৈরি হওয়ার জল্পনা তীব্র রূপ নিয়েছে। দিল্লির দরবারে ঘাসফুল শিবিরের পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে অভিজ্ঞ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম সামনে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দলের দীর্ঘদিনের এই সাংসদের সাম্প্রতিক বিস্ফোরক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে, যা কালীঘাটের ওপর চাপ আরও বাড়াল বলে মনে করা হচ্ছে।
নেপথ্যের কোন্দল ও দলবদলের সম্ভাবনা
দলীয় সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে দলের দূরত্বের শুরু মূলত মাসখানেক আগে। লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই ক্ষোভের সূত্রপাত। এর পরপরই প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সর্বনাশের অভিযোগ এনে দলের সব পদ ত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তীতে কেন্দ্রের তরফ থেকে তাঁর নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আগামী ৭ জুন প্রায় কুড়ি জন তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক এই ভাঙন তত্ত্বকে আরও জোরালো করেছে। আগামী সোমবার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের দিনই লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে নতুন দলনেতা হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নাম প্রস্তাব করে চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে।
নীতি-আদর্শের লড়াই বনাম শাসনের ব্যর্থতা
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাম্প্রতিক বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়ার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘শাসনের ব্যর্থতা’ ও ‘নীতির বিরুদ্ধে রায়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিবৃতির মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে বর্তমান নেতৃত্ব ও দলের নীতিগত বিচ্যুতির দিকেই আঙুল তুলেছেন।
সোমবারের প্রস্তাবিত চিঠির ওপরই এখন নির্ভর করছে লোকসভায় তৃণমূলের ক্ষমতার ভারসাম্য। যদি শেষ পর্যন্ত বড় অংশের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পক্ষে সই করেন, তবে জাতীয় রাজনীতিতে তা শাসক দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে, যা বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকেও পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।