রাজ্যে বড় নিয়োগের পথে নবান্ন, ৫০ হাজার শূন্যপদ পূরণে আজই বড় বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে নিয়োগের জট খুলতে বড় পদক্ষেপ, ৫০ হাজার শূন্যপদ পূরণের পথে সরকার!
রাজ্যজুড়ে সরকারি দপ্তরে লক্ষাধিক শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে অবশেষে বড় উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত করতে আজ শুক্রবার নবান্নে রাজ্যের পাঁচটি রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন তিনি। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন নিয়োগ নীতি নির্ধারণই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
স্বচ্ছ নিয়োগই সরকারের মূল লক্ষ্য
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে স্কুল সার্ভিস কমিশন থেকে শুরু করে পাবলিক সার্ভিস কমিশন পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছিল, তা বর্তমান প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে। সূত্রের খবর, স্বজনপোষণ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রুখতে ইন্টারভিউয়ের নম্বর কমিয়ে লিখিত পরীক্ষা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বরের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি) পুনরায় স্বশাসিত সাংবিধানিক সংস্থার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার নিয়োগের পরিকল্পনা
ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৪৪টি দপ্তরের কাছে শূন্যপদের বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে অর্থ দপ্তর। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম দফায় প্রায় ৫০ হাজার স্থায়ী পদে নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে পুলিশ বিভাগে কনস্টেবল ও সাব-ইনস্পেক্টর মিলিয়ে প্রায় ১৩ হাজার পদ পূরণের প্রস্তাব রয়েছে। সরকারি প্রকল্পগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ব্লক ও মহকুমা স্তরের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতেও কর্মী নিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফলে দীর্ঘদিনের চুক্তিভিত্তিক বা অবসরপ্রাপ্তদের দিয়ে কাজ চালানোর মতো পরিস্থিতির অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ রাজ্যের শিক্ষিত তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সরকারি কাজে গতি ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে ধাপে ধাপে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার রোডম্যাপ তৈরি করছে নবান্ন।