সব পূর্বাভাস ব্যর্থ করে অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি বাংলায়!
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সব পূর্বাভাস ব্যর্থ করে অবশেষে ভারত ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। মৌসম ভবনের দেওয়া পরপর চারটি পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত করে বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর কেরালায় অফিশিয়ালি বর্ষা শুরুর ঘোষণা করেছে। তীব্র দাবদাহের মাঝে এই ঘোষণা দেশজুড়ে স্বস্তি এনে দিলেও কেরালায় বর্ষার এই বিলম্বিত আগমন নতুন করে জলবায়ুগত উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। একই সাথে কেরালায় বর্ষা ঢোকার পর থেকেই এখন চাতক পাখির মতো বৃষ্টির আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে তীব্র গরমে পুড়তে থাকা বাংলা।
পূর্বাভাসে ২১ বছরের নজিরবিহীন ব্যর্থতা
২০০৫ সাল থেকে দেশে বর্ষার আগমন নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া শুরু করেছে মৌসম ভবন। সাধারণত নির্ধারিত তারিখের থেকে চার দিন পর্যন্ত হেরফের হওয়াকে স্বাভাবিক ধরা হলেও, গত ২১ বছরের ইতিহাসে এবার নিয়ে মাত্র দু’বার ঘোষিত তারিখের ছ’দিন বা তার বেশি পরে দেশে বর্ষা ঢুকল। এর আগে ২০১৫ সালে এমনটা ঘটেছিল। চলতি বছর ২৬ মে-র মধ্যে দেশে বর্ষা শুরুর পূর্বাভাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার ৯ দিন পর মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করল। অবশ্য বিলম্ব হলেও বুধবার রাত থেকে কেরালার বিভিন্ন প্রান্তে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে এবং আলাপুঝা, কোট্টায়াম ও এর্নাকুলাম জেলায় ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে ইতিমধ্যে ২১৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে মৌসুমী বায়ু আরব সাগর, লক্ষদ্বীপ, কেরালা, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশ এবং বঙ্গোপসাগরের একটা বড় অংশে বিস্তার লাভ করেছে।
বাংলায় বর্ষার আগমন ও অনিশ্চয়তা
কেরালা ও বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ুর এই সক্রিয়তার কারণে বাংলায় বর্ষার আগমন নিয়ে আশার আলো দেখছেন সাধারণ মানুষ। তবে আবহবিদরা জানাচ্ছেন, বাংলার বর্ষাকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ— এই স্পষ্ট দুটি ভাগে ভাগ করা যায় এবং উভয় ক্ষেত্রেই বর্ষা প্রবেশের তারিখে বড় রকমের অনিয়মিত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বর্ষা এসেছিল ২০২৫ সালের ২৯ মে এবং সবচেয়ে দেরিতে এসেছিল ১২ জুন (২০২০ ও ২০২৩ সাল)। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গ দ্রুততম বর্ষা পেয়েছিল ২০২১ সালের ১১ জুন এবং সবচেয়ে দেরিতে ২০২৪ সালের ২১ জুন। কেরালাতে বর্ষা দেরিতে ঢোকার কারণে বাংলায় এর সম্ভাব্য প্রভাব কী হবে এবং ঠিক কবে নাগাদ বৃষ্টি শুরু হতে পারে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছেন না আবহাওয়াবিদরা।