E20 পেট্রোল ভরলেই কি বাতিল হবে গাড়ির বিমা, ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কায় কতটা তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি?

E20 পেট্রোল ভরলেই কি বাতিল হবে গাড়ির বিমা, ইঞ্জিনের ক্ষতির আশঙ্কায় কতটা তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি?

দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ‘E20’ অর্থাৎ ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের বোর্ড লাগতেই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে গাড়ির মালিকদের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, এই নতুন জ্বালানি ব্যবহার করলেই নাকি গাড়ির ইন্স্যুরেন্স বা বিমা বাতিল হয়ে যাবে, এমনকি ফেটে যেতে পারে ইঞ্জিনও। এমন পরিস্থিতিতে পুরনো গাড়ির মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলেও পরিবহণ দফতর এবং বিমা বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা।

বিমা বাতিল নয়, তবে আটকে যেতে পারে ক্লেম

কোনো বিমা কো ম্পা নির পলিসিতেই ‘E20 পেট্রোল ব্যবহার করলে বিমা বাতিল হবে’—এমন নিয়ম নেই। বিমা সাধারণত বাতিল হয় প্রিমিয়াম না দিলে কিংবা ভুল তথ্য সরবরাহ করলে। তবে E20 জ্বালানি ব্যবহারের কারণে ইঞ্জিনের ক্ষতি হলে বিমার টাকা বা ক্লেম পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাহকের ‘অবহেলনা’ বা ‘অপব্যবহার’ প্রমাণিত হলে কো ম্পা নি ক্লেম খারিজ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো গাড়ির ম্যানুয়ালে যদি স্পষ্ট লেখা থাকে ‘E10 Only’ (সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ইথানল উপযোগী), এবং মালিক যদি জেনেশুনে তাতে E20 জ্বালানি ভরেন, তবে ইঞ্জিনের ফুয়েল পাইপ বা কার্বুরেটর নষ্ট হলে কো ম্পা নি সেটিকে গ্রাহকের ভুল হিসেবে গণ্য করবে। ফলে ইন্স্যুরেন্স সরাসরি বাতিল না হলেও ইঞ্জিনের ক্ষতির জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ মিলবে না।

সব গাড়ি E20 উপযোগী নয়

ইঞ্জিনের গঠন এবং তৈরির সময়ের ওপর নির্ভর করছে গাড়িটি E20 পেট্রোল সহ্য করতে পারবে কি না।

  • ১ এপ্রিল ২০২৩-এর পরের গাড়ি: ২০২৩ সালের ১ এপ্রিলের পর তৈরি হওয়া BS6 Phase 2 গাড়িগুলো ১০০ শতাংশ E20 কম্প্যাটিবল। এই গাড়িগুলোতে E20 পেট্রোল ব্যবহারে ইঞ্জিন বা বিমা কোনোটিরই ঝুঁকি নেই, যদিও মাইলেজ সামান্য কমতে পারে।
  • ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মডেল: এই সময়ের মধ্যে তৈরি BS4 এবং BS6 Phase 1 গাড়িগুলো মূলত ‘E10’ উপযোগী। এগুলোতে ক্রমাগত E20 ব্যবহার করলে ফুয়েল পাইপ, সিল ও গ্যাসকেট ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে ইঞ্জিন বিকল হতে পারে।
  • ২০০৯ সালের আগের গাড়ি: ২০০৯ সালের আগের পুরনো কার্বুরেটর ইঞ্জিনগুলো কোনোভাবেই E20 জ্বালানির উপযুক্ত নয়।

পরিবেশের সুবিধা বনাম ইঞ্জিনের ঝুঁকি

E20 জ্বালানির প্রধান সুবিধা হলো এটি বায়ু দূষণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেয় এবং দেশের জ্বালানি আমদানি হ্রাস করে। তবে এর বড় অসুবিধা হলো, ইথানল জলীয় বাষ্প আকর্ষণ করে। ফলে পুরনো গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্কে মরচে ধরা, মাইলেজ ৬ থেকে ৮ শতাংশ কমে যাওয়া এবং শীতকালে গাড়ি স্টার্ট হতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই গাড়িচালকদের উচিত ফুয়েল ক্যাপ বা ম্যানুয়াল দেখে গাড়ির উপযোগিতা নিশ্চিত করা। গাড়ি E20 উপযোগী না হলে এই জ্বালানি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। আর নিতান্তই বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হলে পরবর্তীতে দ্রুত সাধারণ পেট্রোল দিয়ে ট্যাঙ্ক টপ-আপ করে নেওয়া এবং সার্ভিস সেন্টার থেকে গাড়িটি E20 উপযোগী কি না, তার লিখিত প্রমাণপত্র সংগ্রহে রাখা জরুরি যাতে ভবিষ্যতে বিমা দাবি করতে কোনো সমস্যা না হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *