আবাসের উপভোক্তাদের জন্য সস্তায় বালি! এক ধাক্কায় বিপুল বাড়ল রাজস্ব

রাজ্যের আবাস যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বড় স্বস্তি। দিন দিন বালির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছিলেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপভোক্তাদের কম দামে বালি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সমীক্ষা শুরু হয়েছে এবং আগামী মাস থেকেই বীরভূমের প্রায় ১১টি ব্লকে প্রাথমিক ভাবে এই সুবিধা চালু হতে চলেছে। বুধবার সিউড়ি-১ ব্লকের একটি জনকল্যাণ শিবিরে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এই ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে গোটা জেলা জুড়েই এই নিয়ম কার্যকর করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে গ্রামীণ আবাস নির্মাণে গতি আসবে এবং দরিদ্র পরিবারগুলি আর্থিক দিক থেকে ব্যাপক উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজস্ব আদায়ে বড়সড় চমক
বালির পাশাপাশি পাথর খাত থেকেও রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে অভাবনীয় সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গত ১৭ মে থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত বীরভূমের ১০টি পাথরের চেক গেট থেকে মোট ৭২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ইদ উৎসব না থাকলে এই পরিমাণ আরও বেশি হত। আগামী মাসেই তা ১০০ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলবে বলে তিনি আশাবাদী। পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বিগত বছরগুলিতে এই সময়ে কোষাগারে অনেক কম টাকা জমা পড়ত। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বছরে সর্বোচ্চ ২২ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বিগত সময়ে নির্বাচনের মুখে সরকারি টাকা লুট হত, যার ফলে কোষাগার বঞ্চিত হত।
বেআইনি কারবারিদের কড়া বার্তা
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর সিন্ডিকেটরাজ এবং ‘নকল চালান’-এর দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। এর ফলেই রাজস্ব আদায়ে এই বড়সড় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ট্রাকে পাথরের উপর ধুলো ছড়িয়ে অবৈধ পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রশাসন চিহ্নিত করেছে। এই ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়লে অভিযুক্তদের দ্বিগুণ জরিমানা করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই অনমনীয় মনোভাবের ফলে আগামী দিনে বেআইনি কারবার পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং রাজ্যের নিজস্ব আয় আরও মজবুত হবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।