তৃণমূলে ব্যাপক রদবদল, শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিজ্ঞ পাঁচ নেতার কাঁধে নতুন দায়িত্ব দিলেন মমতা

দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিতে এবং শৃঙ্খলা কঠোর করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়ার হিড়িক এবং দলত্যাগের প্রবণতা বৃদ্ধির মাঝেই গঠিত হলো নতুন শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েট নেতাদের জায়গায় এবার দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাঁচ অভিজ্ঞ মুখের ওপর। নতুন এই কমিটিতে স্থান পেয়েছেন দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অসীমা পাত্র, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
কেন এই আকস্মিক রদবদল
রাজনৈতিক মহলের মতে, গত কয়েকদিন ধরে দলের অন্দরে যেভাবে একের পর এক নেতা সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছেন, তাতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। অনেকক্ষেত্রেই দলের নির্দেশ অমান্য করার এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠছিল। পুরনো শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরোপুরি সফল না হওয়াতেই দলনেত্রী নিজেই হস্তক্ষেপ করেন। অরূপ ও ফিরহাদের মতো ব্যস্ত মন্ত্রীদের সরিয়ে মূলত প্রবীণ ও সংসদীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ নেতাদের এই কমিটিতে নিয়ে আসা হয়েছে, যাতে তারা দলের ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রশমনে বেশি সময় দিতে পারেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও কার্যকারিতা
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য হলো দলের নিচুতলার কর্মীদের কাছে একটি কড়া বার্তা দেওয়া। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনের মতো কৌশলী ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে এই কমিটি যেকোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দলের অন্দরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক অসন্তোষের গভীরতা এতটাই বেশি যে, শুধুমাত্র কমিটি পরিবর্তন করে এই সংকট পুরোপুরি মেটানো যাবে কি না, তা সময়ই বলবে। এখন দেখার, নতুন এই কমিটি তৃণমূলের অন্দরে কতটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সফল হয়।