আইনজীবীর কাছে তোলাবাজি, চাপের মুখে টাকা ফেরত দিলেন তৃণমূল কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠরা!

কলকাতা পুরসভার ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী চিরঞ্জীব সিনহা। শুধু তাই নয়, তীব্র চাপের মুখে পড়ে সংগৃহীত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন কাউন্সিলরের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী, এমনটাই জানা গিয়েছে। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
১০ লক্ষ টাকার দাবি ও দেড় লক্ষ টাকা আদায়
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নিজের বাড়ি সংস্কারের কাজ করছিলেন আইনজীবী চিরঞ্জীব সিনহা। অভিযোগ, সেই সময় কাউন্সিলর সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়ের দুই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী পীযূষ দে ও পাপিয়া দাস আইনজীবীর কাছে গিয়ে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর শেষ পর্যন্ত ৬ লক্ষ টাকায় রফা হয়। অভিযোগকারী আইনজীবীর দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে দফায় দফায় পীযূষ ও পাপিয়া তাঁর কাছ থেকে মোট ১.৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।
নির্বাচনী ধাক্কা ও ভাইরাল ভিডিওর প্রভাব
এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির একটি বড় প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লোকসভা নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শাসকদলের আশানুরূপ ফল না হওয়ায় বিরোধীরা অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ফলস্বরূপ, বিজেপি কর্মী, সমর্থক এবং নেতৃত্বের প্রবল চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত সংগৃহীত দেড় লক্ষ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন কাউন্সিলরের ওই দুই সহযোগী।
সম্প্রতি ব্যারাকপুরের বিধায়ক তথা আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত এক মহিলা প্রথমে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও, পরবর্তীতে চাপের মুখে স্বীকার করেন যে তিনি টাকা নিয়েছিলেন এবং তা ফেরতও দিয়েছেন। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসায় পুরসভার অন্দরে কাউন্সিলরদের ভূমিকা এবং নাগরিক সুরক্ষার বিষয়টি আবারও বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।