দুর্দিনে দিদির পাশেই আছেন বাবুল, বিদ্রোহীদের ‘চটি-চাটা’ বলে ফেসবুক ছাড়লেন সাংসদ

বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সব ঝড়ঝাপটা উপেক্ষা করে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দলের সেইসব নেতাদের বিরুদ্ধে, যাঁরা একসময় কাজ হাসিল করতে নেত্রীর অনুগত ছিলেন, অথচ আজ ক্ষমতার লোভে দল ভাঙছেন। চরম রাজনৈতিক সংকটের এই মুহূর্তে মমতার পক্ষে সওয়াল করে বাবুল একে বড় বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, জীবনে কোনও ভুল কাজ না করায় ইডি, সিবিআই বা আয়কর দফতরকে তিনি বিন্দুমাত্র ভয় পান না।
তৃণমূলে যোগদানের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত
নিজের রাজনৈতিক জীবনের গতিপ্রকৃতি উল্লেখ করে প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে বিজেপিতে থাকার সময় তাঁর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছিল। ফলে তিনি দল ও সাংসদ পদ ছেড়ে গানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তবে দিল্লিতে তাঁর ফ্ল্যাটে গিয়ে তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁকে দলনেত্রীর বার্তা পৌঁছান এবং জানান যে, আসানসোলের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পছন্দ করেন। গানে কোনও বাধা দেওয়া হবে না— এই শর্তেই তিনি ২০২১ সালের জুনে তৃণমূলে যোগ দেন। বাবুল অতীতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ‘ঝালমুড়ি পর্ব’ এবং আসানসোলের তৎকালীন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির তৈরি করা নানা বাধা কাটিয়ে দিদির নির্দেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার কথাও স্মরণ করেন। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে সেই জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও কয়লা মাফিয়া রাজু ঝাকে বিজেপিতে বরণ করে নেওয়া এবং তাঁকে বিশ্রাম নিতে বলায় তিনি গভীরভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত সৌজন্য ও ট্রোলারদের বিদায়
দলবদল করলেও ব্যক্তিগত স্তরে সৌজন্য বজায় রেখেছেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি জানান, মাত্র দু’জন ছাড়া বিজেপির প্রায় সমস্ত শীর্ষ নেতার সঙ্গেই তাঁর চমৎকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। ইডেন গার্ডেন্সে দিলীপ ঘোষ যেভাবে তাঁর ৮৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন, সেই স্মৃতিও তিনি উল্লেখ করেন। কাকতালীয়ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর জন্মতারিখ মিলে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী নেতাদের ডাকার জন্য মমতার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পোস্টের শেষে ট্রোলারদের আক্রমণ এড়াতে বাবুল কমেন্ট করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং নিজের মোবাইল থেকে ফেসবুক অ্যাপটি আনইনস্টল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে কেবল তাঁর টিম তাঁর গান পোস্ট করবে এবং এই লেখার সমস্ত দায়িত্ব তিনি নিজেই নিয়েছেন।