মুর্শিদাবাদে খেলা ঘোরাল কংগ্রেস, তৃণমূল ও বিজেপির অদ্ভুত জোট ভেঙে পঞ্চায়েত সমিতি দখলের পথে হাত শিবির

মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে ফের একবার বড়সড় এবং নাটকীয় পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল। সব জল্পনা ও জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের অবসান ঘটিয়ে এবার বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির দখল নেওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল জাতীয় কংগ্রেস। একদা হাতছাড়া হওয়া নিজেদের পুরনো রাজনৈতিক মাটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হাত শিবিরের চালে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল শাসক-বিরোধী জোটের সমীকরণ। বৃহস্পতিবার কান্দি মহকুমা শাসকের দপ্তরে বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়তেই মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
নজিরবিহীন জোটের অবসান
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতিতে এক অত্যন্ত বিরল ও ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক সমীকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। ৩৮টি আসন বিশিষ্ট এই পঞ্চায়েত সমিতিতে কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেনি। নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেস ২১টি, জাতীয় কংগ্রেস ৮টি, বিজেপি ৭টি এবং বামফ্রন্ট ২টি আসনে জয়লাভ করেছিল। পরবর্তীতে বোর্ড গঠনের সময় এক নজিরবিহীন সমীকরণ তৈরি হয়, যেখানে সভাপতি পদে বসেন তৃণমূলের প্রতিনিধি এবং সহ-সভাপতি পদটি যায় বিজেপির দখলে। আর এই অদ্ভুত বোর্ডকে নেপথ্য থেকে সমর্থন জোগায় বাম এবং কংগ্রেসের একাংশ। ফলে শাসকদল তৃণমূল ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এক ছাদের তলায় এসে গত আড়াই বছর ধরে এই পঞ্চায়েত সমিতি পরিচালনা করছিল।
রাজনৈতিক ক্ষমতার হাতবদল ও প্রভাব
রাজনীতির দাবার বোর্ডে আড়াই বছর কাটতে না কাটতেই এবার সেই অদ্ভুত জোটের পতন ঘটল। কান্দি মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে কংগ্রেসের ৬ জন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ১৮ জন নির্বাচিত সদস্য সম্পূর্ণ একজোট হয়ে বর্তমান বোর্ডের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। মোট ২৪ জন পঞ্চায়েত সমিতি সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত এই অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার পর স্পষ্ট যে, বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিতে তৃণমূলের ক্ষুব্ধ অংশের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে কংগ্রেস। এই ঘটনার ফলে জেলা স্তরে ঘাসফুল ও পদ্ম শিবিরের আঁতাতের যে অভিযোগ উঠছিল, তার যেমন অবসান ঘটল, তেমনই মুর্শিদাবাদের মাটিতে কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার করে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র নিজেদের দিকে ঘোরাতে সক্ষম হলো।