আরজি কর-কাণ্ডে ফের তৎপর সিবিআই! তড়িঘড়ি সৎকারের কারণ খুঁজতে জলহাটি শ্মশানে আধিকারিকরা

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার তদন্ত নতুন করে গতি পেয়েছে। মৃতদেহ সৎকারে কেন এত তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল, সেই রহস্যের জট খুলতে বুধবার সকালে জলহাটি শ্মশানে পৌঁছন সিবিআই আধিকারিকরা। শ্মশানে দেহ আনার পর ঠিক কী কী ঘটেছিল এবং কী ভাবে দাহকাজ সম্পন্ন হয়, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ও শ্মশানের পরিস্থিতি
নিহতের পরিবারের তরফে প্রথম থেকেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে গাফিলতি এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই তড়িঘড়ি জলহাটি শ্মশানে চিকিৎসকের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছিল। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন শ্মশানের ম্যানেজার ভোলানাথ পাত্রকে একটি স্থানীয় মেয়ের দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করতে বলা হলেও, সেখানে পুলিশি নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক নেতা-বিধায়কদের ভিড় বাড়তে থাকে। সেই ভিড় থেকে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সেই কারণেই আগেভাগে দাহকাজ সারা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ভোলানাথের সঙ্গে কথা বলেছেন তদন্তকারীরা। এর আগে গত সোমবার আরজি কর হাসপাতালেও গিয়েছিলেন তাঁরা।
রাজনৈতিক পালাবদল ও তদন্তের নয়া মোড়
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেও, তদন্ত নিয়ে পরিবারের সন্দেহ পুরোপুরি দূর হয়নি। সম্প্রতি নিহতের পরিবার ফের আদালতের দ্বারস্থ হলে কলকাতা হাই কোর্ট আরজি করের সেমিনার হল-সহ বেশ কিছু জায়গা সিল করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মামলার ফাইল নতুন করে খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনিক এই রদবদল এবং সিবিআইয়ের নতুন পদক্ষেপের ফলে তদন্তে গতি আসার পাশাপাশি, তড়িঘড়ি সৎকার এবং প্রমাণ লোপাটের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের নাম প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।