মমতার নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে কেন্দ্র! তীব্র ক্ষোভে সরব মহুয়া

ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বা পিএসও সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত ‘অপমান’ বলে আখ্যা দিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
নিরাপত্তায় চরম বৈষম্যের অভিযোগ
সমাজমাধ্যম এক্স-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে মহুয়া মৈত্র দাবি করেন, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী এবং সাতবারের সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কমিয়ে তাঁর জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে মমতার নিরাপত্তার সরাসরি তুলনা টানেন। মহুয়ার দাবি, মোহন ভাগবত যেখানে শতাধিক কমান্ডো ও কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী নিয়ে নিশ্চিন্তে চলাফেরা করেন, সেখানে বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কেন্দ্রের এই আচরণ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
হকার উচ্ছেদ ও রাজনৈতিক প্রভাব
নিরাপত্তা বিতর্কের মাঝেই বুধবার ধর্মতলায় হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, গত ৭ জুন যাদবপুর স্টেশন রোড এলাকায় বুলডোজার দিয়ে একাধিক দোকান ভেঙে ফেলা হয় এবং প্রতিবাদী ব্যবসায়ীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদেই পথে নামে তৃণমূল নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষ। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলার মানুষের জীবিকা ও অধিকার রক্ষায় তারা আপসহীন।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে নেত্রীর নিরাপত্তা প্রত্যাহার এবং অন্যদিকে হকার উচ্ছেদ— এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর আরও চড়াচ্ছে তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, সাধারণ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করার ফলেই বিজেপির রাজনৈতিক পতন অনিবার্য। এই জোড়া বিতর্কের জেরে আগামী দিনে রাজনৈতিক ময়দানে শাসক ও বিরোধীর মধ্যকার সংঘাত যে আরও তীব্রতর হবে, তা সহজেই অনুমেয়।