মেসির গায়ে হাত ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন, কলকাতার বিশৃঙ্খলা কাণ্ডে এবার পুলিশকে সরাসরি ইমেল আর্জেন্টিনা শিবিরের!

গত ডিসেম্বরে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফর এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা কাণ্ডে এক বিস্ফোরক মোড় এসেছে। ‘গোট ট্যুর’-এ মেসির সঙ্গে কলকাতায় আসা আর্জেন্টিনা দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সরাসরি বিধাননগর police কমিশনারকে ইমেল পাঠিয়ে এই ঘটনার জন্য রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের বয়ান অনুসারে, ওই ইমেলে স্পষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মাঠে প্রবেশ করার পর থেকেই স্টেডিয়ামের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যায় এবং তাঁর বেশ কিছু অননুমোদিত কার্যকলাপের জেরেই গোটা আয়োজন বানচাল হয়ে পড়ে।
পুলিশকে পাঠানো ইমেলে সুনির্দিষ্ট প্রোটোকল লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ এনেছে মেসির টিম। অভিযোগ করা হয়েছে, ছবি তোলার সময় প্রাক্তন মন্ত্রী নির্দেশিকা অগ্রাহ্য করে বারবার লিওনেল মেসির গায়ে হাত দিচ্ছিলেন, এমনকি জোর করে মেসির কাঁধে এবং কোমরে হাত দিয়ে পোজ দিচ্ছিলেন যা বিশ্বজয়ী অধিনায়কের জন্য যথেষ্ট অস্বস্তিকর ছিল। শুধু তাই নয়, মন্ত্রীর সঙ্গে কোনো রকম অনুমতি ছাড়াই এক বিশাল দল মাঠে ঢুকে পড়ে। যেখানে মাঠে মাত্র ৩ জন অফিশিয়াল ফটোগ্রাফার থাকার অনুমতি ছিল, সেখানে প্রায় ৪০ জন মানুষ মাঠে ক্যামেরা নিয়ে ঢুকে পড়েন, যা মেসির নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে দেয়। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির কারণেই বাধ্য হয়ে মেসিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ইভেন্ট ছেড়ে চলে যেতে হয়। তবে আর্জেন্টিনা শিবির বিশৃঙ্খলার জন্য আয়োজক শতদ্রু দত্তকে পুরোপুরি ক্লিনচিট দিয়ে জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
আদালতে বাড়ছে আইনি চাপ
আর্জেন্টিনা শিবিরের এই ইমেলের পর আয়োজক শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, এই প্রমাণটি পুলিশি তদন্তে বিরাট সাহায্য করবে। এই ঘটনার রেশ ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। শতদ্রু দত্তের আইনজীবী অরিন্দম জানা সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়ে অরূপ বিশ্বাসের আইনি রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, যা চলতি সপ্তাহেই শুনানির জন্য উঠতে পারে। এর আগে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর অরূপ বিশ্বাস গ্রেফতারি এড়াতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত তাঁকে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দিয়েছিল।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও টিকিট বিতর্ক
তদন্তের প্রক্রিয়ায় অভিযোগ উঠেছে যে, প্রাক্তন মন্ত্রী তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইভেন্টের প্রায় ২২,০০০ টিকিট জোরপূর্বক হাতিয়ে নিয়েছিলেন এবং তা প্রভাব খাটিয়ে বিলি বা বিক্রি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠালেও, তিনি প্রথমে শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে হাজিরা এড়ান এবং পরবর্তীতে আদালত থেকে রক্ষাকবচ পান। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল শিবিরের এই সরাসরি ইমেল আসার পর প্রাক্তন মন্ত্রীর ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা স্পষ্ট। এই ঘটনার ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক তারকাদের কলকাতায় আনার ক্ষেত্রেও রাজ্যের ভাবমূর্তি বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।