১০ কোটির নিরাপত্তা টপকে রাম মন্দিরের দানবাক্স ফাঁকা! সিসিটিভি কারচুপি ধরে ফেলল সিট

অযোধ্যার রাম মন্দিরের গর্ভগৃহ ও চত্বরে থাকা দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা এবং বহুমূল্য গয়না চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। ঘটনার তদন্তে নেমে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) জানতে পেরেছে, চুরির প্রমাণ লোপাট করতে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা বা এডিট করা হয়েছে। টানা তিন দিনের ম্যারাথন তল্লাশি ও ডিজিটাল প্রমাণের বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে আসার পর তদন্তের গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে।
সন্দেহের তির রক্ষকদের দিকেই
গত ১১ মাসে মন্দিরের ত্রিস্তরীয় ও অভেদ্য নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করতে প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। বিপুল ব্যয়ে নির্মিত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে এমন চুরির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ট্রাস্টের অন্দরেও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে কারচুপির প্রমাণ মেলায় স্বাভাবিকভাবেই তদন্তকারীদের সন্দেহের তির এখন নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দিকে। ইতিমধ্যেই মন্দিরের এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মী রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদবকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেছে সিট। পাশাপাশি সিসিটিভি মনিটরিং রুমের কর্মী এবং মূল প্রবেশদ্বারের নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকাও কড়াভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আতসকাচের নিচে ব্যাঙ্ক কর্মী ও প্রভাবশালীরা
শুধুমাত্র নিরাপত্তারক্ষী নয়, দানবাক্সের টাকা ও সোনা গণনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক কর্মীদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, টাকা গোনার কাজে রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের নিজস্ব কর্মীর সংখ্যা ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং মূল দায়িত্ব সামলাতেন ব্যাঙ্ক কর্মীরাই। এছাড়া ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তাদের ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী কর্মচারী, যারা ভিআইপি পাস ও সিসিটিভি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন, তাদেরও অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিট ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে, যার মধ্যে ১২৫ জনেরও বেশি কর্মীকে জেরা করা সম্পন্ন হয়েছে। বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় অনেককে দফায় দফায় ডাকা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট যে, ভিতরের কোনো বড় চক্র বা রক্ষকদের একাংশের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এত বড় মাপের চুরি ও প্রমাণ লোপাট করা সম্পূর্ণ আসাম্ভব। এই ঘটনার জেরে রাম মন্দিরের মতো সংবেদনশীল স্থানের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এই বিপুল দুর্নীতির কারণে ভক্তদের বিশ্বাসে আঘাত লাগার পাশাপাশি আগামী দিনে ট্রাস্টের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা প্রবল।