তৃণমূলের ৫৩৪ কোটির অ্যাকাউন্টে বড় ধাক্কা, মমতার নির্দেশ উড়িয়ে লেনদেন বন্ধের নজিরবিহীন চিঠি অরূপের!
.jpeg.webp?w=800&resize=800,450&ssl=1)
নবান্নের ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর এবার গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার দলের বিপুল তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রকাশ্য কোন্দল শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকার দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কালীঘাট ও নতুন ব্লকের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলীয় নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করেই ব্যাঙ্কের লেনদেন বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছেন খোদ দলের কোষাধ্যক্ষ।
টাকা সরানোর ছক এবং ক্ষমতার লড়াই
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভায় নতুন ব্লক তৈরি হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এই ৫৩৪ কোটি টাকার ওপর আইনি অধিকার দাবি করতে শুরু করে। এই খবর কালীঘাটে পৌঁছানো মাত্রই সক্রিয় হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন ব্লক যাতে কোনোভাবেই এই বিপুল অর্থের নিয়ন্ত্রণ না পায়, সেজন্য তিনি দলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসকে তড়িঘড়ি সমস্ত টাকা সাময়িকভাবে অন্য একটি বন্ধু রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। তবে এই গোপন পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নতুন ব্লকের নেতারা অরূপ বিশ্বাসকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন এবং আইনি পদক্ষেপের বার্তা দিয়ে ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠাতে চাপ দেন।
অরূপের চিঠি ও কালীঘাটে সংশয়
নতুন ব্লকের তীব্র চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ এড়িয়ে ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠান অরূপ বিশ্বাস। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, দলে বর্তমানে চরম বিবাদ চলছে এবং কার হাতে প্রকৃত কর্তৃত্ব বা দলীয় প্রতীক থাকবে, তা এখনও আইনিভাবে মীমাংসিত নয়। এই পরিস্থিতিতে দলের গচ্ছিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে সমস্ত রকম লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান তিনি। কোষাধ্যক্ষের এই পদক্ষেপের ফলে ৫৩৪ কোটি টাকার অ্যাকাউন্টটি কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ার মুখে পড়েছে। এই ঘটনার পর অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে কালীঘাটের অন্দরে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ‘মেসি কাণ্ডে’ টানা হাজিরা এড়ানো এবং নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করায় দলের একটি বড় অংশ মনে করছে, অরূপ বিশ্বাস হয়তো ভেতরে ভেতরে ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।
সম্ভাব্য আইনি জটিলতা ও প্রভাব
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের ধারণা, অরূপ বিশ্বাসের এই চিঠির সূত্র ধরে আগামী দিনে থানায় এফআইআর দায়ের হতে পারে। এর ওপর ভিত্তি করে পুলিশ খুব দ্রুত তৃণমূলের ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ সিল করে দিতে পারে। ক্ষমতা হারানোর পর এবার দলের বিপুল আর্থিক তহবিলও আইনি জাঁতাকলে আটকে পড়ার উপক্রম হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে কালীঘাট শিবির। এই আর্থিক অচলাবস্থা দল পরিচালনার ক্ষেত্রে সংগঠনকে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।