১ জুলাই থেকেই DA বাড়ছে? নবান্নের ইঙ্গিতে চর্চা তুঙ্গে, ২২ জুনের বাজেটে কী চমক অপেক্ষা করছে?

আগামী ১ জুলাই থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ একধাক্কায় ২২ শতাংশ বাড়ছে বলে সমাজমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গত ১৬ জুন মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই জল্পনার অবসান ঘটানো হয়েছে। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, তাঁর নাম ও স্বাক্ষর সম্বলিত ভাইরাল অর্ডারটি অসত্য এবং এত বিপুল পরিমাণ ডিএ অনুমোদন করার ক্ষমতা তাঁর নেই। এই ধরনের ভুয়ো খবরে বিভ্রান্ত না হয়ে আগামী ২২ জুনের রাজ্য বাজেট পেশ হওয়া পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ ব্যবধান ও ক্ষোভ
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, যেখানে রাজ্যের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ডিএ-র এই ৪২ শতাংশের বিশাল ব্যবধান নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভ রয়েছে। আর সেই ক্ষোভ ও প্রত্যাশার অভাবেই সমাজমাধ্যমে ভুয়ো খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন ‘যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ’-এর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছেন যে কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ-র এই ফারাক ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে।
বাজেটে বড় ঘোষণার সম্ভাবনা ও প্রভাব
চলতি মাসের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী আগামী বাজেটে ডিএ সংক্রান্ত ঘোষণার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এছাড়া, গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট বৈঠকে ‘সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন’ গঠনে নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, এই নতুন কমিশন সর্বস্তরের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবে। আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকরের প্রতিশ্রুতি এবং ডিএ বৈষম্য কমানোর আশ্বাসের পর, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সম্পূর্ণ নজর এখন ২২ জুনের বাজেটের দিকে। এই বাজেটে ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে ইতিবাচক কোনো ঘোষণা হলে তা যেমন কর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করবে, তেমনই তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও সরাসরি প্রভাব ফেলবে।